সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনে বোমাবর্ষণ করেছে আর হুতি যোদ্ধারা সৌদির শহরগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, গত বুধবার হুতিরা এমনটি জানিয়েছে। পাল্টাপাল্টি এসব হামলায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইয়েমেনে হুতিদের ত্বরিত অগ্রগতিতে এ যুদ্ধে ইরানের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন একটি রণক্ষেত্রে সংঘাতের অবনতি হচ্ছে, এমন ইঙ্গিত দেওয়া এক সতর্কবার্তায় সৌদি আরবে ভ্রমণের বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র; তারা তাদের সরকারি কর্মকর্তাদের ইয়েমেনের সীমান্তের ২০ মাইলের মধ্যে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে।
এদিকে হুতিরা সৌদি আরবে হামলা জোরদার করা এবং বাব আল–মান্দেব প্রণালির কাছে নিয়ন্ত্রণ বিস্তার করার মধ্যেই ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সঙ্গে ওয়াশিংটন সরাসরি আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। সোমবার সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, আমরা হুতিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও জানান, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরব এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরিস্থিতি আয়ত্তে রয়েছে উল্লেখ করে ভ্যান্স বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল ও গতিশীল একটি বিষয়, তবে আমরা টানা নজর রাখছি এবং আমেরিকার সর্বোত্তম স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। খবর বিডিনিউজের।
রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিরা বুধবার রাতে রণক্ষেত্রে ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত জোট বাহিনীর কাছ থেকে সাঁজোয়া যান জব্দ করার ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে আরও দেখা গেছে, মাথার উপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যাচ্ছে আর মরুভূমির বালিয়াড়িতে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে ধোঁয়ার কুণ্ডুলি আকাশের দিকে উঠে যাচ্ছে।
হুতি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, তারা সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ইয়ানবুতে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশায়িতের বিমান ঘাঁটিতেও আঘাত হেনেছে। তবে কখন এসব হামলা চালানো হয়েছে তা জানাননি তিনি। মঙ্গলবার সৌদি আরব দেশটির অনেকগুলো এলাকায় হামলার সতর্কতা জারি করেছিল, সেগুলোর মধ্যে এ দুটি শহরও ছিল। তবে বুধবার দেশটি এ ধরনের কোনো ঘোষণা দেয়নি। সৌদি কর্মকর্তারা ও তেল কোম্পানি আরামকো মন্তব্য চেয়ে রয়টার্সের পাঠানো ইমেইলে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
এর আগে হুতি মুখপাত্র সারি জানিয়েছেন, তারা সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, হুতিরা একটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের ভিডিও প্রকাশ করলেও এটি ঠিক কবে ও কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা যাচাই করা যায়নি। ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে অনলাইনে এই ভিডিওটির কোনো পুরোনো সংস্করণ পাওয়া যায়নি। বিমানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর মডেলটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে বিমানটির লেজের অংশে সৌদি আরবের পতাকা দেখা গেছে। ধ্বংসাবশেষের আকৃতি ও রঙের পরিবর্তন বিভিন্ন দৃশ্য ও কোণ থেকে একইরকম দেখা গেছে।
সারি জানিয়েছেন, সৌদি আরব চলতি সপ্তাহে ইয়েমেন প্রায় ৪৫০ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করা সৌদি সমর্থিত সরকারের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের ও সৌদি আরবের বাহিনীগুলো হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালাচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে ওই অঞ্চলের শহরগুলোতে সতর্কতা জারি করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে এক ড্রোন হামলা দেশটির অতি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পশ্চিম উপকূলে তেল পাঠিয়ে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছিল সৌদি আরব। এই হামলার জন্য ইরান সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেছে রিয়াদ। হামলাটি ইরাকি ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে বাগদাদ।
মঙ্গলবার রিয়াদ জানিয়েছে, এদিন মক্কা নগরীর দক্ষিণে হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। হুতিরা মক্কা নগরীকে লক্ষ্যস্থল করার কথা অস্বীকার করে বলেছে, অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে সাজানো এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।













