নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সচেতনতার বিকল্প নেই

| শুক্রবার , ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি বলেছেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে জনসচেতনতা ও খাদ্য পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এ কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরো ব্যাপকভাবে চালাতে হবে।’ বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাকর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। কারণ একটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা অনেকাংশে নির্ভর করে তারা কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করছে তার ওপর। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্যের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা করে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে আমাদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাবার ও পানীয় সম্পর্কে মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে এবং খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।’ মন্ত্রী জানান, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে আরো ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দিতে হবে। বর্তমানে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে যে আটটি মোবাইল ল্যাব রয়েছে, তা পর্যাপ্ত নয়। পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলায় মোবাইল ল্যাবের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে ঘটনাস্থলে দ্রুত খাদ্যপণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম আরো কার্যকর হবে। তিনি বলেন, ‘ল্যাবরেটরিতে খাদ্যপণ্যের পরীক্ষার ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য খাদ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’

নিরাপদ খাদ্য বলতে সাধারণত জীবাণু ও ক্ষতিকর পদার্থ মুক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকিহীন খাদ্যকে বোঝায়। তবে খাদ্য নিরাপত্তা বলতে উৎপাদিত খাদ্য যাতে নিরাপদ হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ খাদ্য নিরাপত্তা একটি কৌশলগত ব্যবস্থাপনাযেখানে খাদ্যজনিত অসুস্থতা রোধ করতে নিরাপদ বা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ বা প্রস্তুতকরণ, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণ সম্পর্কে বলা হচ্ছে। খাদ্য বিভিন্নভাবে অনিরাপদ হতে পারে। উৎপাদন থেকে শুরু করে খাবার টেবিলে আসা পর্যন্ত খাদ্য নানা পর্যায়ে দূষিত হয়। এর মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা অসচেতনতাকে চিহ্নিত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, দেশে খাদ্যে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার কোনো নজির নাই। ফলে তারা শুধু জরিমানার অঙ্ক গুণেই ফের একই কাজ করতে থাকে। এছাড়া খাদ্যে ভেজাল বন্ধে প্রশাসন মাঝে মধ্যে ঝটিকা অভিযান চালায়। নিয়মিত অভিযান না চালানোর কারণে খাদ্যে ভেজাল দেয়ার সাথে জড়িত চক্রটি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ভেজাল পণ্যের ছড়াছড়ি। মূলত এসব পণ্যের সহজলভ্যতা ও প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাব এর জন্য দায়ী। বিষাক্ত ও রং মিশ্রিত খাবার ডায়াবেটিস ছাড়াও কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গে ক্যান্সারের কারণ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। লিভার ও কিডনি বিকলের পাশাপাশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে ক্ষতিকারক রাসায়নিকযুক্ত খাবারই দায়ী।

খাদ্যে বিষক্রিয়া দেশে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে এখন অনেকটা। ফলে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের চেষ্টা বা আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। তবু রোধ করা যাচ্ছে না এ অবাধ অপতৎপরতা। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন ধাপে নানা ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় খাদ্যদ্রব্যে। রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার অনিরাপদ করে ফেলছে খাদ্যকে। এসব খাবার খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। খাদ্যকে স্বাভাবিক এবং ভেজাল ও দূষণমুক্ত সরবরাহ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার দ্বার পর্যন্ত খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই। এজন্য শুধু আইন প্রণয়ন করলে হবে না, প্রয়োজন তার কার্যকর প্রয়োগ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে