ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ জেলেদের নৌকায়, অথচ এই জাতীয় মাছ গণমানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে প্রতি কেজি ১৮০০–২০০০ টাকা, সাধারণ জনগণই যদি এই ভরা মৌসুমে এই ‘জাতীয় মাছের‘ স্বাদ না পায় – এই ‘জাতীয় মাছ‘ নাম বাদ দেয়া হোক। ইলিশের ভরা মৌসুমে দেশের মধ্যবিত্ত নিম্নবিত্তরা ইলিশের স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে – নাকি ভরা মৌসুমে সব ইলিশ হিমাগারে রেখে সারা বছরের জন্য উচ্চবিত্তদের ইলিশ বিলাস নিশ্চিত করা হবে – রাষ্ট্রের নীতি কোনটি হওয়া উচিৎ। ছোটবেলায় দেখতাম – একসময় ৪০/৫০ টাকা কেজিতে ইলিশ বিক্রি হতো, গ্রামের ঘরে ঘরে কি আনন্দ, সরিষা ইলিশ – ইলিশ ভাজি – ইলিশ ঝোল! কি তৃপ্তি গ্রামের কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষের! আসলো হিমাগার, ভরা মৌসুমে টনে টনে ইলিশ ঢুকছে শীতল ঘরে, সামান্য কিছু যাচ্ছে বাজারে, দাম গণমানুষের ক্রয় ক্ষমতার অনেক উপরে! এই ইলিশ সিন্ডিকেট সারাবছর সরকারি হিমাগার ব্যবহার করে সুবিধামত সময়ে ধীরে ধীরে ইলিশ বাজারে ছাড়বে, সারা বছর ২০০০ টাকা কেজি দাম ধরে রাখবে! দীর্ঘদিন হিমাগারে মাছ রাখার যে খরচ– ওখানে ও বিলকর্তাকে কিছু দিয়ে একতৃতীয়াংশে ম্যানেজ করে ফেলে! এভাবেই সিন্ডিকেটের ভরপুর বাণিজ্য।
শুধু ইলিশ নয় – বাজারের সব ভোগ্যপণ্যই নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে! ‘মৌসুমে কোন ভোগ্যপণ্য হিমাগারে রাখা যাবে না’– মৌসুমে সকল মাছ ফল সবজি ভোগ্যপণ্য–বাজারে আসবে, সবকিছুই গণমানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে! উচ্চবিত্তদের স্বার্থ নয়, গণমানুষের স্বার্থ বিবেচনায় – সব বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হোক!












