বহু বছর আগে কোন এক মনুষ্য, গুণী শিল্পী হালকা গোলাকার একটি বস্তু বানিয়ে নাম দিয়েছে ‘ফুটবল’। আমার জন্ম তারিখ মনে নেই। মনুষ্য শিল্পের বানানো আমি এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। আমার ওজন আধা কেজি থেকে কম হলেও আমি মনে কষ্ট পাই না। কারণ সারা বিশ্বে আমার পরিচয় মানুষের মুখে মুখে। বিশ্বকাপ ফুটবল, এশিয়া ফুটবল, দেশে দেশে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়। যে কারিগর আমাকে আবিষ্কার করেছে তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
আমি গর্ব করি ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’ আমার নামে হয়েছে। আমি মনে মনে চিন্তা করি সৃষ্টিকর্তা আমাকে এমন গুণাবলি দিয়েছে। বিশ্বের তাবত বিভিন্ন ধর্মের মানুষকে, আকাশের নিচে একই চাঁদোয়ার তলে–এক জায়গায় করেছি। আমার বলার অনেক কথা থাকলেও আনন্দ ও দুঃখের কথা বলতে পারি না। আমার কিছু কথা অব্যক্ত রয়ে যায়। ফুটবল প্রেমিক মানুষেরা দলমত–জাত, ধর্ম–নির্বিশেষে প্রিয় দল জয় হওয়ার জন্য মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডায় প্রার্থনা করে। জাত, ধর্ম–নির্বিশেষে যখন সব মানুষকে এক জায়গায় দেখি। অনেক সময় দেখি যখন প্রিয় দল হেরে যায় সমর্থকদের আহাজারি আবাল–বৃদ্ধ–শিশু কিশোরদের কান্নাকাটি, তা–দেখে তখন আমার বুক ভেঙে যায়। আর যখন জয়ী দলের খেলোয়াড়েরা ও সমর্থকরা আনন্দ উল্লাসে নাচানাচি করে। তখন আমি এই বিচিত্র কর্ম দেখে চিন্তা করি মানুষের ‘জীবন সংগ্রাম’ ও জয় পরাজয় আছে।
আমার এমন গুণাবলি, এত ছোট হালকা ফুটবল দিয়ে পৃথিবীতে যুগে যুগে বহু খেলোড়ায়ার নাম করে হাজার–হাজার কোটি ডলারের মালিক হয়ে গেছেন। আমি ফুটবল শুধু টাকার খুশবু খাই। মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ হওয়ায় বিধাতা মানুষের জীবন ধারণের সকল ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মানুষকে প্রত্যেক প্রাণী থেকে সৃষ্টিকর্তা শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে তৈরী করেছেন। এক দেশের সাথে আরেক দেশের খেলা শুরু হওয়ার পূর্বে দুই অধিনায়ক নিজ দেশের ভালোবাসা ও পতাকা বিনিময় করেন।খেলা শুরু হওয়ার পূর্বে প্রত্যেক খেলোয়াড়েরা কোমল মতি বাচ্ছাদের হাত ধরে মাঠে প্রবেশ করে। বাচ্ছাদের মতো হিংসা–মুক্ত খেলার জন্য। এই ভালো কাজ দেখে আমি খুবই আনন্দ পাই। এত বড় বিশ্বের ফুটবল আসরে নিয়ম কানুনের সহিত বাস্তবে কোনও মিল দেখি না। এই মানবিক গুণাবলি খেলার পরে দেশে দেশে দেখি না। বর্তমানে এক দেশের সাথে আরেক দেশের সারা বিশ্বের মানুষেরা শান্তিতে বসবাস করার জন্য এই ফুটবল খেলা মানবিক শিক্ষা দেয়। কিন্তু বাস্তবে তা আমি দেখি না। কারণ এক দেশের সাথে আরেক দেশের আধুনিক অস্ত্রের বাহাদুরি এবং বিভিন্ন দেশের নিরিহ মানুষকে হত্যা এবং জোর পূর্বক আধুনিক অস্ত্র দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করে দেওয়া এবং পুরো ইরান জাতিকে মরণাস্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। মানুষের সামনে মানুষ হত্যা, মানুষের সামনে মানুষ না খেয়ে মারা যাওয়া, পৃথিবীতে এরচেয়ে আশ্চার্য্য আর কিছু দেখি না। এ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুধু মনে আনন্দ দেওয়ার জন্য নয়। খেলা হচ্ছে দেশে দেশে সব মানুষের প্রেম, প্রীতি ও শান্তির জন্য। কিন্তু বর্তমানে প্রেম, প্রীতি ও দেশাত্ববোধের অভাব দেখি। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শুধুকি মনোরঞ্জনের জন্য? দেশে দেশে সহানুভুতি বাড়ছে না। মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব বাড়ছে না। একটু খানি এই ছোট বল নিয়ে দু’ঘণ্টা সময় ফুটবল প্রতিযোগিতার জন্য দু’বছর কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। আধুনিক শরীর চর্চা, ব্যায়াম এবং অফুরন্ত দমের প্রয়োজন হয় এবং অনেক সাধনা করতে হয়। সারা পৃথিবীর ফুটবল প্রেমিক দর্শকের কাছে আমার অনুরোধ, আপনারা সুস্থ থাকার লক্ষ্যে বিভিন্ন দলের সমর্থক হয়ে বসে বসে ফুটবল খেলা দেখার সাথে সাথে আপনারাও নিয়মিত হাঁটা, লম্বা দৌড় এবং শরীর চর্চা করবেন, সুস্থ থাকবেন, রোগ মুক্ত থাকবেন, আপনারা শক্তিশালী অসাম্প্রদায়ী এবং যুদ্ধ মুক্ত, পৃথিবী, মানব সভ্যতার পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবেন। তখন বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করা সার্থক হবে।












