মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। স্বাভাবিক নিয়মেই সমাজের নিরাপদ বেষ্টনীতে মানুষের বেড়ে ওঠা ও বিকাশ ঘটে। একটি আদর্শ ও সুশীল সমাজের সুনির্দিষ্ট কিছু মৌলিক উপাদান থাকে–যেমন রীতিনীতি, পারস্পরিক শিষ্টাচার এবং সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা। এসব ইতিবাচক চর্চার মধ্য দিয়েই একটি সমাজের মানুষ সুনাগরিক হিসেবে জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত হয়, যা সমাজে পরম স্থায়িত্ব ও শান্তির পরিবেশ বজায় রাখে।
তবে সমাজব্যবস্থাকে সচল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু ব্যক্তি ও নাগরিক দায়বদ্ধতা থাকে। প্রতিটি সমাজেই যেমন অভাবী, দারিদ্র্যপীড়িত, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও ক্ষুধার্ত মানুষ থাকে, তেমনই থাকে নানাবিধ সামাজিক বৈষম্যের যাঁতাকল। সমাজের এই ক্ষতগুলোকে নিরাময় করতে সামাজিক দায়িত্ববোধের কোনো বিকল্প নেই। এই সংকট নিরসনে আমরা যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে যখন আর্তপীড়িত ও সহায়সম্বলহীন মানুষের পাশে দাঁড়াই, তখন তা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে পরিগণিত হয়। আর সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে সচেতন উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রতিটি সুনাগরিকের নৈতিক দায়বদ্ধতা।
মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে অঢেল অর্থের চেয়ে একটি বড় ‘মানবিক মন‘ থাকা বেশি প্রয়োজন। নিঃস্বার্থ ও পবিত্র হৃদয় নিয়ে বিত্তশালীদের দুয়ারে গিয়ে দাঁড়ালে অনেক সময় সামাজিক সেবার জন্য অর্থের জোগানও হয়ে যায়–প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা ও আত্মত্যাগ। এভাবেই সমাজের শিক্ষা ও সাহিত্যে পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর অংশকে টেনে তুলে ছোট ছোট অন্ধকারগুলোকে দূর করা সম্ভব।













