জ্যোতির্বিজ্ঞান মতে গ্রহ অগণিত, উপগ্রহ অগণিত, নক্ষত্র অগণিত, গ্যালাক্সি অগণিত, কিন্তু ‘পৃথিবী’ নামক মনুষ্যবসতিপূর্ণ একটিমাত্র গ্রহ আমাদের। সৃষ্টিজগতের মধ্যে পৃথিবী নামক গ্রহটি অনন্য। মানুষ এবং প্রাণীকুলের বসতিস্থল বলে পৃথিবী অদ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
সৃষ্টিকুলে মানুষই অনন্য মানুষই হয় মেধাবী বিদগ্ধজন। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ আনুকূল্য এবং যত্নে গড়া মানুষই সৃষ্টির সেরা। আবার মানবসমাজে পরোপকারী মানুষই সবচেয়ে সেরা সবচেয়ে সুন্দর। মানবিক, মনুষ্যত্ববান, সৎ, সহজ আর দয়ালু মানুষই স্রষ্টার সবচেয়ে প্রিয় ও নৈকট্যলাভকারী রূপে অভিষিক্ত হয়ে থাকে। মানুষ তার সুপ্ত গুণাবলি বিকশিত করে নিজেকে জগতজ্যোতি বা জগতের আলোরূপে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
বহুগুণে গুণান্বিত এই মানুষই মহিমান্বিত হয় নিজগুণে। আপন শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও অনন্য হয়ে উঠতে পারে মানুষ। এরকম দৃষ্টান্ত জগতে অগণন। গুণী মানুষকেই মানবকুলের শিরোমণি রূপে মানায়। আবার শৈল্পিক, রুচিশীল মনন আর মানসিকতা ধারণ ও লালন করার মত যোগ্যতাও একটি বড় মাপকাঠি একজন উঁচুদরের মানুষের।
একজন মানুষের শিল্প–সংস্কৃতি–সাহিত্যবোধ, পরিশীলিত মনোভাব, সুন্দর রুচি, উপযুক্ত মেধা, সঠিক মূল্যবোধ আর যথাযথ জ্ঞান এবং সৃজনশীল মানসিকতার সমন্বয়ে গড়ে উঠে সত্যিকারের মনুষ্যত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ। তবুও আমাদের সামাজিক কিংবা পারিপার্শ্বিক অস্থির এই সময়ে কিছু মানুষের আলাপচারিতা শুনতেই ইচ্ছে করে না অসংযত, অশোভন আচরণ কিংবা কূটকৌশলযুক্ত বাকচাতুর্যের কারণে! আবার কিছু মানুষের কথাগুলো চুম্বকের মত করে আকৃষ্ট করে, তাদের ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য, উদারচিন্তা ও মার্জিত রুচির কারণে। পরিমিতিবোধ, সংযত আচরণ, সৌজন্যবোধ, শিষ্টাচার আর প্রকাশভঙ্গির সৌন্দর্য কিংবা জ্ঞানের স্ফূরণ মানুষের ব্যক্তিত্বের চমৎকার নিদর্শন হয়ে যায়। যা সকলের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়।
যাপিত জীবনের বৈচিত্র্যময় চরিত্রের স্বরূপ বিবেচনায় এবং নৈর্ব্যক্তিক পর্যবেক্ষণ মোতাবেক বলতে হয়, একজন মার্জিত মানুষই সুন্দর মানুষ। একজন রুচিবান বিনয়ী মানুষই সুন্দর মানুষ। একজন পরোপকারী মানবিক মানুষই সুন্দর মানুষ। একজন সহানুভূতিশীল মানুষই সুন্দর মানুষ। একজন সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষই সুন্দর মানুষ। একজন কপটতাহীন সংকীর্ণতামুক্ত মানুষই সুন্দর মানুষ। একজন নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন বিবেকবান মানুষই সুন্দর মানুষ। একজন ন্যায়পরায়ণ নীতিবান মানুষই সুন্দর মানুষ। একজন শুভ বোধবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই সুন্দর মানুষ। আর এই গুণাবলির সমন্বয়ে গড়ে উঠা মানুষই শৈল্পিক মননসম্পন্ন মানুষ। ব্যক্তিত্বের সৌন্দর্য ধারণকারী মানুষই সুন্দর মানুষ। আত্মিক সৌন্দর্যের চর্চা ও পরিচর্যাকারী মানুষই অনন্য–অতুলনীয় মানুষ। আত্মিক সৌন্দর্যে গড়া মানুষই প্রকৃত সুন্দর মানুষ।











