খুঁটিতে বেঁধে ও পিঠে ইট তুলে দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

চুরির অভিযোগ

মহেশখালী প্রতিনিধি | বুধবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ

মহেশখালীতে চুরির অভিযোগে ফয়সাল (২৮) নামে এক যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফকিরাঘোনা মিয়াজীর পাড়া গ্রামের কেফায়েত উল্লাহর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফয়সাল ওই ইউনিয়নের ফকিরাঘোনা এলাকার নুরুল আলম প্রকাশ বাদশার ছেলে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ফয়সালকে মারধর করতে দেখা গেছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা অবস্থায় তার পিঠে ইট দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায় ভিডিওতে। এরপর তার পিঠে বেশ কিছু ইট তুলে দিয়ে মারধর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা ফয়সালকে উদ্ধার করে মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিডিনিউজ জানায়, ফয়সালের বাবা নুরুল আলম বলেন, ফজরের পর ঘুম থেকে উঠে ছেলেকে মারধর করে হাসপাতালে নেওয়ার খবর পান। মানুষ এসে বলছে, তোমার ছেলেকে মেরে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি ছেলে মৃত। ছেলে তার সঙ্গে সড়কের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে ফজরে সে কাজে যাওয়ার জন্য মানুষ ডাকতে বের হইছিল। আমার ছেলে যদি চুরি করতো, তাহলে তার হাতে তো মোবাইল, টাকা, স্বর্ণ, এসব পাওয়া যেত। কই, এসব তো কিছুই পাওয়া যায়নি।

মহেশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুস সুলতান বলেন, মিয়াজির পাড়ায় কেফায়েত উল্লাহর ঘর ও সংলগ্ন স্টিলের আসবাবপত্রের কারখানায় চুরির উদ্দেশ্যে ঢোকেন সন্দেহে ফয়সালকে আটক করা হয়েছিল। ওসি বলেন, খুবই অন্যায় কাজ করছে। মাইরধোর করছে তো বাইন্ধা রাখছিল। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মনে হয় মারা গেছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর ডিক্লেয়ার দিয়েছে। মারধরের ঘটনায় ওই বাড়ির এক যুবককে আটক করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা ওই বাড়িওয়ালার ছেলেকে আটক করছি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, মামলা হবে। স্থানীয়ভাবে ফয়সালের চুরি করার অভ্যাসের তথ্য পেয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে কোনো মামলা বা পুলিশের রেকর্ড আছে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, ওরকম নাই। চুরি করলেও এভাবে মেরে ফেলা যায় না, বলেন ওসি।

বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল বলেন, তিনি যতটুকু জানতে পেরেছেন, চোর সন্দেহে ফয়সালকে ধরে মারধর করা হয়েছিল। ছেলেটা ঘরে নাকি চুরি করতে গেছিল। চোর সন্দেহে ওকে ধরছে, ধরে অনেকটা মারধর করে মারা গেছে। চুরির অভিযোগ সত্য হলেও এভাবে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা যায় না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, না, না, না, মেরে ফেলা যায় না। চুরি করলেও এভাবে মেরে ফেলা যায় না।

এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে নিহতের বাবা নুরুল আলম বলেন, ফয়সালের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কঙবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে তারা বাড়িতে ফিরেছেন। কবর দেওয়ার পর মামলা করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওসি আব্দুস সুলতান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ শতাংশ সক্ষমতা অব্যবহৃত
পরবর্তী নিবন্ধকাদের আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড