চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালে (পিসিটি) প্রায় ৭ মাস ধরে সীমিত পরিসরে শুধুমাত্র রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা হচ্ছে। টার্মিনালটিতে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরকে গতিশীল করার জন্য পিসিটি নির্মাণ করা হলেও বন্দরের কার্যক্রমে বিশাল এই টার্মিনালের ভূমিকা এখনো সামান্য। তবে এই টার্মিনালে শীঘ্রই পুরোদমে কাজ শুরু হবে। সৌদি আরবের রাজ পরিবারের মালিকানাধীন রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালকে (আরএসজিটিআই) ২২ বছরের জন্য পিসিটি হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চুক্তির প্রায় ৬ মাস হতে চললেও ইকুইপমেন্টের অভাবে এই টার্মিনাল চলছে ঢিমেতালে। স্ক্যানার স্থাপনের পর আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং শুরু হলে টার্মিনালটিতে গতি আসবে বলে সূত্রগুলো মন্তব্য করেছে।
জানা যায়, আমদানি–রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আনতে ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বছরে ৫ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন টার্মিনালটি বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষামূলকভাবে হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। চালবাহী দুটি জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে পিসিটির ট্রায়াল অপারেশন সম্পন্ন হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনালটি নিজেরা অপারেট করতে আগ্রহী ছিল। ওই সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল, ৪৬০ কোটি টাকার ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ করা হলে টার্মিনালটি নিজেরা পরিচালনা করতে পারবে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টার্মিনালটি পরিচালনা করলে এক বছরের মধ্যে ইকুইপমেন্ট খাতে বিনিয়োগ করা ৪৬০ কোটি টাকা উপার্জন করা সম্ভব হবে। কিন্তু সরকারের প্রভাবশালী একটি মহলের চাপে বন্দর কর্তৃপক্ষ টার্মিনালটি নিজেদের কাছে রাখতে পারেনি। তৎকালীন সরকারের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় এটিকে বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেইনের আওতায় ২২ বছরের জন্য সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালের (আরএসজিটিআই) সাথে চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত ১১ জুন থেকে তারা পিসিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে। চুক্তির শর্ত ছিল, সৌদি আরবের কোম্পানিটি পিসিটির জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করে টার্মিনালটি পরিচালনা করবে। কিন্তু প্রায় ৭ মাস পরও টার্মিনালটি ব্যবহারে গতি আসেনি। গতকাল পর্যন্ত এই টার্মিনালে সংযোজিত করা হয়নি কোনো আধুনিক ইকুইপমেন্ট।
হিসাব মতে, পিসিটিতে দৈনিক ১৩শ টিইইউএসের বেশি কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে। অথচ গত কয়েক মাস ধরে সেখানে দৈনিক গড়ে ২শর কম কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। পিসিটি সক্ষমতার ৯০ শতাংশের বেশি অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, টার্মিনালটিতে এখনো আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে স্ক্যানার নেই। নেই গ্যান্ট্রি ক্রেন বা রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি। শুধুমাত্র ক্রেন আছে (গিয়ারড) এমন জাহাজই টার্মিনালটিতে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে। আর জাহাজের ক্রেন ব্যবহার করে কিছু রপ্তানি পণ্যবোঝাই কন্টেনার পিসিটিতে হ্যান্ডলিং হচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, পিসিটি অচিরেই গতিশীল হবে। তারা স্ক্যানার স্থাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্ক্যানার স্থাপিত হওয়ার সাথে সাথে আমদানি পণ্যবাহী কন্টেনার হ্যান্ডলিং শুরু হবে। তিনি বলেন, কী গ্যান্ট্রি ক্রেন রেডিমেড পাওয়া যায় না। এগুলোর অর্ডার দিতে হয়। পেতে এক বছরের মতো সময় লাগে। তারা কী গ্যান্ট্রি ক্রেন বসানোর ব্যাপারেও কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে এজন্য সময় লাগবে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, পিসিটিতে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু না হলেও আরএসজিটিআই নির্দিষ্ট মাশুল পরিশোধ করছে। তারা মাসে কমপক্ষে আড়াই লাখ কন্টেনার হ্যান্ডলিং করার ট্যারিফ প্রদান করবে। বর্তমানে প্রতি মাসে চটগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক লাখ ডলারের মতো ট্যারিফ পাচ্ছে।














