সাতকানিয়ায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তের হামলায় এক দোকানির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন (৩২)। গত রবিবার রাতে উপজেলার সাতকানিয়া রাস্তার মাথা মডেল মসজিদ এলাকায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয় এবং গতকাল সোমবার ভোরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শাহাদাত হোসেন। নিহত শাহাদাত হোসেন ঢেমশা ইউনিয়নের উত্তর ঢেমশা মাইজপাড়ার মৃত মো. শফির ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত ১১ টার দিকে শাহাদাত চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া রাস্তার মাথার মডেল মসজিদ এলাকায় নিজের টং দোকানের সামনে চেয়ার বসা ছিল। তখন সিএনজি চালিত ২টি অটোরিকশা ও কয়েকটি মোটরসাইকেল যোগে ১২–১৫ জনের মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত সেখানে আসে এবং শাহাদাতের ওপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা তাকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে শাহাদাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় উপস্থিত লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা অস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে লোকজন তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ভোরে শাহাদাত হোসেন মারা যায়।
নিহতের বড় ভাই মো. মোবারক হোসেন জানান, ঘটনার দিন রাতে আমার ভাই নিজের দোকানের সামনে বসে ছিল। এসময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা এসে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার ভাইয়ের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। আমার ভাইয়ের স্ত্রী ছাড়াও ৩টি ছেলে ও ১টি মেয়ে রয়েছে। হত্যাকারীদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। সাতকানিয়ার কেরানীহাট আশ–শেফা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রায়হান পারভেজ ইমন জানান, মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন মাথার পেছনের দিকে মারাত্মক ভাবে আঘাত পেয়েছে। মনে হচ্ছে মাথার পেছনে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মাথার পেছনের আঘাতটি বেশ গুরুত্বর ছিল। সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল হক জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত এবং গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে।














