সর্বজনীন পেনশন : ব্যাংক কর্মীদের প্রগতি স্কিমে আনার উদ্যোগ

| বৃহস্পতিবার , ৪ জুন, ২০২৬ at ৭:২২ পূর্বাহ্ণ

দেশের সকল ব্যাংক কর্মীকে সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে বলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বিষয়টি ত্বরান্বিত করতে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ও সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। খবর বিডিনিউজের।

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন সদস্যকে যে কোনো একটি স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে, সেটা বাস্তবায়নে ব্যাংকাররা ভুমিকা রাখবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

নাজমা মোবারেক বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহক বাড়াতে সব ব্যাংক শাখায় আলাদা ডেস্ক স্থাপন ও ব্যানার প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। পেনশন স্কিমের বিষয়টিকে ব্যাংকের নিজস্ব প্রচারের অংশ হিসেবে নিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সেভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। সব বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রগতি স্কিমের আওতাভুক্ত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এবং ২৪টি ব্যাংক পেনশন স্কিমের চাঁদা গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘটা করে শুরু করা এই পেনশন স্কিমের চারটি স্কিমে ৩০ মে পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন। এই তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৮৬ কোটি টাকা। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত শ্রমিককর্মীর বড় অংশই অবসরপরবর্তী কোনো আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় নেই। সরকারি চাকরিজীবীরা সরকারি পেনশনের আওতায় থাকলেও বেসরকারি খাতে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এই শূন্যতা পূরণে ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অধীনে বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ‘প্রগতি স্কিম’ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সাথে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি সভায় উপস্থাপন করা হয়। সভায় প্রগতি স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য উপস্থাপন করে বলা হয়

এই স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে প্রণীত, প্রতিষ্ঠান হিসেবে যোগ দিলে চাঁদার ৫০ শতাংশ কর্মী এবং বাকি ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান দেবে, মাসিক চাঁদার পরিমাণ : ,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা, অবসরের পর আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা, মাসিক চাঁদায় আয়কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশন আয়করমুক্ত, পেনশনারদের ৬০ বছর পূর্তির পর কর্পাসের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এককালীন গ্র্যাচুইটি হিসেবে দেওয়া হবে।

শেষ বয়সে সব শ্রেণির মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য ২০২৩ সালের ১৭ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। কিন্তু ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই স্কিম নিয়ে জনমনে এক ধরনের অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর পেনশন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও জনগণের সাড়া তলানিতে নামে। শুরুতে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিম চালু করা হয়েছিল। পরে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রত্যয় স্কিম চালু করতে গিয়ে ধাক্কা খায় কর্তৃপক্ষ। অংশীজনদের বিরোধিতার মুখে ওই প্যাকেজ আর চালু করা যায়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজিইসি মোড়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল
পরবর্তী নিবন্ধমোবাইল কিনে না দেওয়ায় বাবাকে কুপিয়ে জখম