সাধারণত জাতীয় বা আন্তর্জাতিক দিবসগুলো বছরে একদিন উদযাপিত হলেও, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অনন্য। সারা বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ এক সপ্তাহব্যাপী (১–৭ আগস্ট) নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এর তাৎপর্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়। কারণ একটি শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকা, সঠিক বিকাশ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় এই মাতৃদুগ্ধ পানের মাধ্যমেই।
শিশুর জীবনে মাতৃদুগ্ধের ভূমিকা ও নিয়মাবলী –একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার সবচেয়ে বড় উপহার হলো মায়ের দুধ। শিশুর সঠিক বৃদ্ধির জন্য তিনটি বিষয় মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
১. প্রথম টিকা (শালদুধ): প্রসূতি মায়ের দুধের প্রথম ফোঁটা বা ‘শালদুধ’ শিশুর জন্য জীবনের প্রথম প্রাকৃতিক প্রতিষেধক বা টিকা হিসেবে কাজ করে। জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে এই শালদুধ খাওয়াতে হবে।
২. একচ্ছত্র মাতৃদুগ্ধ পান –জন্মের পর থেকে প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধই খাওয়াতে হবে। এ সময় এক ফোঁটা পানি বা অন্য কোনো উপাদানের প্রয়োজন নেই।
৩. পরিপূরক খাবার ও ধারাবাহিকতা: ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর বাড়তি খাবার দেওয়া শুরু করতে হবে এবং শিশু ২ বছর বয়সে পদার্পণ করা পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যেতে হবে।
* ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে অব্যর্থ ঢাল-যেসব শিশু জীবনের প্রথম ৬ মাস একচ্ছত্রভাবে মায়ের দুধ পান করে, তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রাকৃতিকভাবেই বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব শিশু নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক প্রাণঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ রোগ থেকে অনেকাংশেই নিরাপদে থাকে। শিশুর দৈহিক ও মস্তিষ্কের সুষম বিকাশে মাতৃদুগ্ধের পুষ্টিগুণ অতুলনীয়।
* শিশুদের ‘গ্রোথ মনিটরিং’ বা শারীরিক বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ-শুধু খাদ্য দেওয়াই শেষ কথা নয়, বয়স অনুসারে একটি শিশুর সার্বিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষা করাই হলো গ্রোথ মনিটরিং সেবা। এ সেবার আওতায় নিয়মিত যেসব বিষয় পরীক্ষা করা উচিত: বয়স অনুপাতে উচ্চতা ও ওজন ঠিক আছে কিনা। পুষ্টির মাত্রা এবং মাংসপেশির স্বাভাবিক বিকাশ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা।
অপূষ্টির ঝুঁকি ও জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা :গ্রোথ মনিটরিং সেবার মাধ্যমে অনেক সময় দেখা যায়, সঠিক যত্নের অভাবে কিছু শিশু মারাত্মক অপূষ্টিতে ভুগছে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুরা সহজেই নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই কোনো শিশু অপুষ্টিতে আক্রান্ত চিহ্নিত হওয়া মাত্রই কালবিলম্ব না করে বিশেষ চিকিৎসা ও সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাকে দ্রুত সুস্থ করে তুলতে হবে।












