রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা মাসুদুল হত্যায় অংশ নেওয়া শুটার মো. ইলিয়াস ওরফে ‘ধামা ইলিয়াস’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত সোমবার রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করে রাতেই তাকে চট্টগ্রামে আনা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। গ্রেপ্তার ইলিয়াস সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। মাসুদুল হত্যার ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজেও অস্ত্র হাতে তাকে দেখা যায়।
গতকাল মঙ্গলবার ইলিয়াসকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করলে শুনানি শেষে চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাখাওয়াত হোসেন দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ধামা ইলিয়াছ রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাধ্যম কদলপুর উত্তর শমমেরপাড়া এলাকার মৃত নুরুল আমিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি হত্যা মামলাসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।
গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় মাসুদুল হক চৌধুরীকে। তিনি পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। তার বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের ধারণা, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। এতে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান, তার সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে আরও আটজনকে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলে অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলাটি বর্তমানে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ডিবির হাতে। ডিবিই তাকে গ্রেপ্তার করেছে। ধামা ইলিয়াছ রাউজানের যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধে বহু মামলা রয়েছে।












