রাউজানে টানা বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে ভেসে গেছে ১২৬টি পুকুর, জলাশয়ের ছোট বড় মাছ। এই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভার মধ্যে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পৌর এলাকার সাতটি ওয়ার্ড ও ৬ ইউনিয়নে। মৎস্য বিভাগের হিসাব মতে, মাছ চাষের আওতাভুক্ত ১২৬টি পুকুর–জলাশয় থেকে ভেসে গেছে ৫৫ মে.টন মাছ। ভেসে গেছে সরকারি হ্যাচারিতে থাকা ৪ লক্ষ হালদার পোনা।
গহিরা এলাকার মৎস্য চাষী মীর মঞ্জুরুল আলম বলেছেন, পাহাড় থেকে নেমে আসা বিধ্বংসী পানির স্রোতে চোখের পলকে তার সাড়ে তিন একর জমিতে থাকা চাষের খামার ডুবে প্রায় সাত লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। এসময় পানির স্রোতে ভেসে গেছে খামারের সাথে থাকা গুদামের লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মাছের খাদ্য।
পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মুকুল দে বলেছেন, তার পুকুর ডুবে ভেসে গেছে আড়াই লাখ টাকার মাছ। তিনি বলেন, ্এনজিও থেকে লোন নিয়ে তিনি মাছ চাষ করছিলেন। বন্যার পানিতে তার পুকুরের সব মাছ ভেসে গেছে।
এই উপজেলায় সৃষ্ট বন্যায় পোল্ট্রি খামারেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ। তাদের হিসাব অনুসারে উপজেলার বিভিন্নস্থানে থাকা ৩৫০টি মুরগির খামারে ক্ষতির পরিমাণ ৩১ লাখের উপরে। পানির স্রোতে খামার ধসে মুরগি মরে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের উপজেলা কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসু।
রাউজান সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম বলেছেন, বৃষ্টির পানির সাথে উপজেলার উত্তরপূর্বাংশের পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রচন্ড স্রোত হয়ে পানি লোকালয় ডুবিয়ে দিয়েছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির চাপে ডাবুয়া খালের বাঁধ ভেঙে ও সর্তা খালে পানি উপচে পড়ে বিধ্বংসী স্রোতে লোকালয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে ৬টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বহু পুকুর জলাশয় ডুবে সব মাছ ভেসে গেছে। হালদা নদী থেকে আহরণ করা ডিম থেকে উৎপাদিত ছোট ছোট পোনা মাছও সরকারি হ্যাচারির পুকুর গুলো থেকে ভেসে গেছে। সব মিলিয়ে সৃষ্ট বন্যায় মৎস্যখাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি ২৫ লাখ টাকা বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, এখন পানি নামতে শুরু করেছে। তার কার্যালয়ের লোকজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের কাজ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএস রাহাতুল ইসলাম জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছেন। ইতিমধ্যে সরকারি ভাবে পাওয়া ৪০ মেট্রিক টন খাদ্য ও নগদ ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করার কাজ তদারকি করছেন। এই কর্মকর্তার মতে এই উপজেলার সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যোগাযোগ অবকাঠামো ও মৎস্য খাতে।









