দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ও সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষদের মাঝে শুকনো ও রান্না করা খাবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে খেয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম। গত ৮ দিন থেকে চলতে থাকা টানা ভারী বর্ষণে পানিবন্দী মানুষের মাঝে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব খাবার বিতরণ করেন তিনি। খাদ্য বিতরণকালে তিনি স্পটে দাঁড়িয়ে কুমিরাসহ আরো কয়েকটি স্থানে ড্রেনের বাধা অপসারণ করে জলাবদ্ধতা নিরসন করেন। খাদ্য বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর বাদশা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জামিরুল ইসলাম, সহকারী রুবেল দাস, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আল আমিন, মো. মহিউদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি ও জনপ্রতিনিধি নেতৃবৃন্দ। জানা গেছে, টানা বর্ষণে ও জলাবদ্ধতায় পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের সাগরের তীরবর্তীতে থাকা প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে জীবন যাপন করছেন। এইসব মানুষের মাঝে চাল, শুকনো খাবার এবং রান্না করা খাবার, জরুরি খাদ্য সহায়তা হিসেবে এসব খাবার বিতরণ করছেন উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট ও চালসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে বাড়ি বাড়ি কোমর সমান পানি অতিক্রম করে পানিবন্দি মানুষের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম। তবে পানি নিষ্কাশনের কোন সুব্যবস্থা না থাকার কারণে পৌরসভা সহ নিম্নাঞ্চলের মানুষগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি পৌরসভা সহ উপজেলার বিভিন্ন ও ইউনিয়নের পানিবন্দি ভুক্তভোগী মানুষগুলোর। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, গত ৮ দিন ধরে দুর্যোগ কালীন সময়ে পৌরসভা সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষগুলোকে রান্না করা ও শুকনো খাবারসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্যোগ কালীন সময় পর্যন্ত এইসব খাবার পানিবন্দি মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে কয়েক হাজার মানুষদের মাঝে শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ কলা করা হলেও সবশেষে বলা যাবে কত হাজার মানুষের মাঝে এসব খাদ্য সামগ্রী বিচরণ করা হয়েছে। এদিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাড়াও পৌরসভার নামার বাজার, আমিরাবাদ, পশ্চিম ও মধ্যম মহাদেবপুর, গোডাউন রোড,তুলাতুলী ধোপা পাড়া, শেখপাড়া, শেখ নগর,পন্থিছিলা, সোবহানবাগ,শিবপুর,বায়তুশ শরফসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানি নিমজ্জিত হয়ে জলাবদ্ধতায় ক্ষতির শিকার হন।
এছাড়া উপজেলার সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, মুরাদপুর ইউনিয়ন, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, সোনাইছড়ি, বাঁশবাড়িয়া, ভাটিয়ারী ও সলিমপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের বসতঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকাবাসী চলতি বছর মৌসুমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।












