চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় ডেনমার্কভিত্তিক কোম্পানি এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল বা নতুন করে চুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ৫৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের এ প্রকল্পে নির্মাণের জন্য তিন বছর এবং পরিচালনার জন্য ৩০ বছরসহ চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ৩৩ বছর। পরে মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়বে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে লক্ষ্মীপুর–১ আসনের বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য দেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। খবর বিডিনিউজের।
শাহাদাত হোসেন তার প্রশ্নে বলেন, লালদিয়া চর কনটেনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করে ‘অসম চুক্তি’ করা হয়েছে। সেই চুক্তি বাতিল করে নতুন করে চুক্তি করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের আছে কি না, তা জানতে চান তিনি। জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, পিপিপি মডেলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল স্থাপন ও পরিচালনা শীর্ষক প্রকল্পের কনসেশন চুক্তি সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব আইনের আওতায় করা হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ‘স্বচ্ছতার সঙ্গে’ চুক্তি করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে সরকার–টু–সরকার বা জিটুজি পিপিপি ব্যবস্থার আওতাধীন। মন্ত্রী জানান, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২১ মে ডেনমার্কভিত্তিক মার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর এলাকায় কনটেনার টার্মিনাল নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়ে প্রস্তাব দেয়। ওই বছরের ২৯ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদন দেয়।
নৌমন্ত্রী জানান, ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার প্রয়োজনীয় যাচাই–বাছাই শেষ করে পছন্দের দরদাতার সঙ্গে আলোচনা চালায়। পরে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও ভেটিংয়ের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ওই বছরের ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি চুক্তিটি অনুমোদন করে। ১৬ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়ার পর ১৭ নভেম্বর এপিএমটি বিভির অনুকূলে লেটার অব অ্যাওয়ার্ড জারি করা হয়। একই দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএমটি বিভির মধ্যে কনসেশন চুক্তি হয়। মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের খালি জায়গায় টার্মিনালটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি চালু হলে বন্দরের সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।












