জন্ম থেকে শুরু করে মানুষ জীবনের একটা বড় সময় ছুটে চলে পরিবার, সমাজসহ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে। এক সময় বয়স বাড়ে, চুল পাকে, কর্মজীবনের ও পরিসমাপ্তি ঘটে। আধুনিক ব্যস্ততম সমাজে, নিজের সন্তানেরাও ব্যস্ত হয়ে যায় নিজেদের উন্নত ক্যারিয়ার গঠনে আবার কখনো বা নিজেদের জগত আর জীবন নিয়ে। ঠিক তখনই পরিবারের প্রবীণ মানুষটির জীবনেও নেমে আসে এক নীরব একাকীত্ব! যা থেকে জন্ম নেয় মানসিক বিষণ্নতা, হতাশা। কারণ আমাদের দেশে যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার কারণে বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তাই আজ উন্নত বিশ্বের মতই আমাদের দেশেও সিনিয়র সিটিজেন ক্লাব এখন সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার অনেক সময় আর্থিক সংকট, পরিবারের অনাগ্রহ কিংবা নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে বয়স্কদের ঘরের কোণে আটকে রাখাকেই নিরাপদ মনে করেন পরিবারের লোকজন, যা আসলে তাঁদের মানসিক মৃত্যুরই নামান্তর। পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় মনে করেন বয়স্ক বাবা মা, কিংবা দাদা দাদিকে কেবল ঔষধ আর খাবার দিলেই তাদের প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তাঁদেরও মানসিক শান্তির জন্য একজন কথা বলার মানুষ, বিনোদন, আনন্দের প্রয়োজন আছে সেটা ভুলে থাকারই চেষ্টা করে।
একটি আদর্শ বয়স্ক বিনোদন ক্লাব হতে পারে বয়স্কদের জন্য গল্প করা, বিনোদন আর আনন্দে সময় কাটানোর এক স্থান। যেখানে বয়স্কদের জন্য থাকবে পঠন কক্ষ, লাইব্রেরি, পত্রিকা, ম্যাগাজিনসহ পছন্দের সাময়িকী। থাকবে ইনডোর গেইমস্ জোন দাবা, ক্যারাম লুডু টেবিল টেনিস সহ নানা বিনোদন ব্যবস্থা। আরো থাকবে মাসে একদিন চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রেসার ও সুগার মাপার ফ্রী ক্যাম্প। আরামদায়ক বসার ঘর, যেখানে বসে প্রবীণরা আড্ডা দিতে পারেন। মনে রাখতে হবে বার্ধক্য জীবন কোন অভিশাপ নয়, এটি অভিজ্ঞতার এক পরিপক্ব রূপ। আজ তাঁরা যেখানে পৌঁছেছে, আমাদেরও সেখানেই পৌঁছতে হবে একই পথ দিয়ে। প্রতিটি প্রবীণ মানুষ তাঁদের জীবনের মধ্যে দিয়ে আমাদের আজকের এই সমাজকে বিনির্মাণ করে গেছেন। তাই তাঁদের শেষ বয়সটাতে যেন হাসি আনন্দ আর সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই বয়স্ক বিনোদন ক্লাব হতে পারে সেই প্রচেষ্টারই সঞ্চারণশীল এক আলোকবিন্দু।













