শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–একই পরিবারের তিন সদস্য, তিনটি ভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। বাবা, মা ও ছেলে একই পরিবারের তিন প্রজন্ম–বাংলাদেশের রাজনীতির পাশাপাশি সারাবিশ্বেও এক বিরল অধ্যায়। ইতিহাসে কিছু ঘটনা শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকে না, বরং একটি দেশের মানুষের স্মৃতিতে বিশেষ অধ্যায় হয়ে জায়গা করে নেয়।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ আগস্ট ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ভাষণ দেন। জাতিসংঘের সরকারি নথিতে তাঁর সেই বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে। এরপর তাঁর সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের নথিতে ১৯৯৫ সালের তাঁর বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে এবং ২০০৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরের সাধারণ বিতর্কেও তাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। আর এবার ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায়ও দেখল বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন জিয়াউর রহমান। পাশাপাশি তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচারসহ দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। জিয়াউর রহমানের এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়া আরও কয়েকবার সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারকসভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভায়ও তিনি বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ব শান্তি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গা সমস্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলেন।












