প্রাথমিক শিক্ষাকে ধাপে ধাপে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে তা অবৈতনিক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গতকাল বুধবার গণসাক্ষরতা অভিযান আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি চার থেকে ১৩ বছরের বয়সীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাইমারি বাড়িয়ে ক্লাস এইট পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। আমরা বাধ্যতামূলক করতে চাই। সো, এটা আমাদেরই প্ল্যান। ইনশাআল্লাহ আমরা এটা করবো স্টেপ বাই স্টেপ।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১০ সালে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে নতুন শিক্ষানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২০২৩ সালে নতুন শিক্ষাক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সে শিক্ষাক্রম বাতিল করে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এবং তা অবৈতনিক। পরীক্ষামূলকভাবে ৭২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু করা হয়েছিল। খবর বিডিনিউজের।
তবে ২০২৫ সালের মার্চে অন্তর্বর্তী সরকার সেসব বিদ্যালয়ের ওই তিন শ্রেণিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলতি বছর থেকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি নানা সংগঠনের মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযান ও শিক্ষাবিদদের অনেকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
কোনো কিছু ব্যবহারের সক্ষমতা না থাকলে তার প্রয়োজনীয়তাও নেই মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার ৬৫ হাজারের বেশি স্কুলে গার্ড নাই, ক্লিনার নাই, একজন টিচার বললেন। আমরা অনেক কিছু নিয়ে কথা বলছি। আমরা ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ নিয়ে কথা বলছি, আমরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিয়ে কথা বলছি। আপনি দিলেন ভাই লাখ টাকার একটা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম…. (চুরি করে) তার পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাবে।
মেট্রোপলিটন এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জমি প্রতিনিয়ত দখল হচ্ছে বলে তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, আমার স্কুলের ক্যাম্পাসের বিল্ডিংয়ের অংশ দখল করে নিয়ে যায়। আপনারা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কথা বলছেন। আমার সমস্যাগুলো আরো অনেক গভীর। স্কুলের জমি দখল নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, কোনোদিনও কারোর কাছে শুনেছেন মসজিদের একটা সিঁড়ি বা একটা ইট দখল করেছে কেউ? শুনেছেন ভাই কেউ? কখনো হয় নাই। কেন? কারণ একটা ‘জেনারেল কনসেন্সাস’ আমাদের মধ্যে আছে, যে এটা একটা পাক, একটা পবিত্র, একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এইখানে হাত দেয়া যাবে না। কোন মানদণ্ডে একটা প্রাইমারি স্কুল একটা সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা না? তো আমাদের একটা দায়িত্ব আছে প্রাইমারি স্কুলকে যে, এই যে গুরুত্ব এটা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।










