ফিরে দেখা জুলাই : শহীদ ওয়াসিম আকরাম ও অজানা কথা

জাহিদুল করিম কচি | রবিবার , ১৯ জুলাই, ২০২৬ at ৭:২৮ পূর্বাহ্ণ

দিনটি ছিল ২০২৪ সালের ১০ জুলাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ঘোষিত চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট নতুন রেলস্টেশন এলাকায় রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি ছিল। সকাল প্রায় ১০টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সেখানে সমবেত হন। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, রাসেল আহমেদ ও ইব্রাহিম রনি সেখানে আসার কথা ছিল। তবে তাদের আগমনের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ট্রেনের ভেতরে তাদের ওপর হামলা চালায়। যার কারণে ওইদিন কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি সমন্বয়করা। দুপুর প্রায় ১২টার দিকে অবস্থান কর্মসূচির স্থান পরিবর্তনের নির্দেশনা আসে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা দেওয়ানহাট মোড়ে গিয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যান। সেখানে এক হাজারেরও বেশি বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুর ৩টায় যোলশহর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। কর্মসূচির খবর পেয়ে পূর্ব থেকে প্রায় দুই শতাধিক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী সেখানে অবস্থান নেয়। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি ও রাসেল আহমেদের নির্দেশনায় কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করে মুরাদপুরে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কর্মসূচিতে যোগদান করতে গাড়ি সহ বিভিন্নভাবে যাওয়ার চেষ্টা করলে ওই সময় পুলিশ জিইসি মোড় থেকে শিক্ষার্থীদের মুরাদপুরের দিকে যেতে বাধা দেয়। অনেককে গাড়িসহ ফিরিয়ে দেয়। তবুও শিক্ষার্থীরা বিকল্প পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন দিক থেকে মুরাদপুরে সমবেত হয়। শুরুতে সেখানে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে যোগ দিলে উপস্থিতির সংখ্যা প্রায় ২ হাজারে পৌঁছে।

তখন বিকেল ৪টা। উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা সহ উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। শুরুতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ অবস্থান নিলেও তারা মূলত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিয়ে জিইসি মোড় পর্যন্ত নিয়ে যায়, আবার শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া দিলে তারা পিছু হটে। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আন্দোলনকারীরা বহদ্দারহাট এলাকায় অবস্থান নেন। সেখানে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি ও রাসেল আহমেদ উপস্থিত হন। তাদের আগমনের পর আরও শিক্ষার্থী যোগ দিলে আন্দোলনকারীদের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছে। পরবর্তীতে আন্দোলনকারীরা একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা জিইসি মোড়ের দিকে সরে যায়। পরে আন্দোলনকারীরা মুরাদপুর এলাকায় পুনরায় অবস্থান নেয়।

বিকেল ৫টার দিকে মুরাদপুর এলাকায় সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ওই সময় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫০০ জনে পৌঁছে। পশ্চিম পাশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়, পূর্ব পাশে অবস্থান করেন আন্দোলনকারী। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র ধাওয়াপাল্টাধাওয়ার ঘটনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পূর্ব পাশে আন্দোলনকারী অন্তত একশত শিক্ষার্থী আটকা পড়ে যান, যাদের মধ্যে শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছিলেন। পশ্চিম পাশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা বারবার পুলিশকে অনুরোধ করেন যাতে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। তবে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। আন্দোলনকারীদের ভাষ্যমতে, ওয়াসিম আকরাম বারবার পুলিশকে জানান যে প্রতিপক্ষের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। কিন্তু পুলিশ এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। জীবন বাঁচানোর চেষ্টা ও পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে বিকেল প্রায় ৫টা ১০ মিনিটে ওয়াসিম আকরাম গুলিবিদ্ধ হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একাধিক শিক্ষার্থী মতে, ওয়াসিম আকরাম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তার মৃত্যু ঘটে।

ওয়াসিম আকরাম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আন্দোলনকারীরা একযোগে পূর্ব পাশে গিয়ে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে পশ্চিম পাশে নিয়ে আসেন। এরপর উভয় পক্ষ পুনরায় আবারও মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ওই সময় পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করলেও সংঘর্ষ চলতে থাকে। বিকেল প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে একটি গুলির ঘটনায় আন্দোলনকারী ফয়সাল আহমেদ শান্ত গুরুতর আহত হন। তিনি মুরাদপুরের পশ্চিম পাশে ফ্লাইওভারের মুখের কাছে অবস্থান করছিলেন। গুলি তার পিঠের পেছনের দিকে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সহযোদ্ধারা তার কাছে গিয়ে গুলিবিদ্ধ স্থান থেকে রক্তক্ষরণ দেখতে পান। পরে তাকে প্রথমে ভ্যানে করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষ চলাকালে সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে ফার্নিচারকর্মী মো. ফারুকও গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়াপাল্টাধাওয়া অব্যাহত থাকে। অন্ধকার ঘনিয়ে এলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা এলাকা ত্যাগ করে চলে যায়। ওই দিনের সংঘর্ষে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন। আহতদের মধ্যে অনেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

মরদেহ দেখতে স্বজনদের অপেক্ষায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা সংঘর্ষের পর মুরাদপুর থেকে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ গুলিবিদ্ধদের খোঁজখবর নিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে জড়ো হন। একই সময়ে শহীদ ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুকের স্বজনরাও হাসপাতালে উপস্থিত হন। তবে তখনও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিতভাবে জানতেন না তাদের সন্তান জীবিত আছেন নাকি মৃত্যুবরণ করেছেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেননি। সেখানে প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরিবারের সদস্য ও আন্দোলনকারীরা বারবার অনুরোধ করলেও নিহতদের মরদেহ এক নজর দেখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কেন দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা জানান, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে, এখন কাউকে ভেতরে যেতে দেওয়া যাবে না।’

এ সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আশপাশেও কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হয়নি। শহীদদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন আন্দোলনকারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নিহতের স্বজনরা বারবার অনুরোধ করে তাদের সন্তানদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে, অন্তত একবার দেখার সুযোগ দিতে বললেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছ থেকে আড়াল রাখা হয়। পরবর্তীতে সেখানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শহীদ ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুকের পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন যে তাদের প্রিয়জনেরা আর বেঁচে নেই। এ খবর নিশ্চিত হওয়ার পর হাসপাতালজুড়ে শোক ও আহাজারির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নিহতদের মাবাবা শোকে ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ কান্নাকাটি করতে করতে বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়েন।এরপর রাত সাড়ে ৮টা। শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করে। তাদের থানায় আসতে বলে। রাত ৯টার দিকে শহীদ ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুকের স্বজনরা থানায় উপস্থিত হন। সেখানে তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও পুলিশ তাদের স্পষ্টভাবে জানায়নি যে তাদের সন্তানরা মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বারবার একই কথা বলেন– ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে।’ এরপর একে একে পরিবারের সদস্যদের ডেকে বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর নেয় পুলিশ। শোকাহত স্বজনরা পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাক্ষর করলেও অধিকাংশই জানতেন না কী উদ্দেশ্যে নথিতে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত তাদের থানায় অপেক্ষা করানো হয়। পরে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে আরও কিছু নথিতে স্বাক্ষর নেন। এ সময় ফয়সাল আহমেদ শান্তর মা বারবার তার সন্তানের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাননি। পরিবারের সদস্যরা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলেও পুলিশ তাদের নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশ জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে তারা বিস্তারিত জানেন না। এ সংক্রান্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। পরে পরিবারের সঙ্গে থাকা কয়েকজন স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনকে আবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিতে পাঠানো হয়। তবে রাত সাড়ে ১১টার দিকেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে শহীদদের পরিবারের সদস্যদের কাছে আবার ফোন আসে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যেতে বলা হয়। মর্গে পৌঁছানোর পর পুলিশ জানায়, প্রতিটি পরিবার থেকে দুজন করে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ শনাক্ত করতে পারবেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা প্রথমবারের মতো পোস্টমর্টেম শেষে তাদের প্রিয়জনদের মরদেহ দেখতে পান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সন্তানদের নিথর দেহ সামনে দেখে স্বজনদের কান্নায় মর্গের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। গভীর রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে শোকাহত মাবাবা ও স্বজনদের আহাজারি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ওই মেডিকেল এলাকার চারপাশ ছিল প্রায় জনশূন্য। সেখানকার বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ। পরিবেশ ছিল একেবারে নীরব।

রাত প্রায় ১টার দিকে পুলিশ পরিবারের সদস্যদের জানায় যে মরদেহগুলো নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। এ সময় ফয়সাল আহমেদ শান্তর মা অনুরোধ করেন যে, যদিও তাদের পারিবারিক নিবাস বরিশালে, তবুও শান্তর জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে হওয়ায় চট্টগ্রামে একটি জানাজা সম্পন্ন করে পরে মরদেহ বরিশালে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা ছিল না। পরবর্তীতে পুলিশ নিজ দায়িত্বে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করে। পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেবল মরদেহের নিকটাত্মীয় অভিভাবকেরাই অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যেতে পারবেন। রাত প্রায় পৌনে ২টার দিকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে পুলিশি বহরের তত্ত্বাবধানে মরদেহগুলো নিজ নিজ পৈতৃক ঠিকানার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। বহরের সামনে ছিল পুলিশের গাড়ি, মাঝখানে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং পেছনে ছিল পুলিশের গাড়ি। এভাবে সারারাত ধরে তিন নিথর দেহ বহন করা অ্যাম্বুলেন্স শহর ছাড়লেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশ হতে দেশান্তরে
পরবর্তী নিবন্ধসমকালের দর্পণ