নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় বিএনপি নেতারা পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিটি পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকবেন। কোনো মণ্ডপে যেন নিরাপত্তার ঘাটতি না থাকে, সে জন্য স্থানীয় নেতারা পূজা কমিটি ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। একই সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল বুধবার বিকেলে নগরের জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের অডিটোরিয়ামে মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন এবং চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সঞ্চালনা করেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার–এই চেতনাকে ধারণ করে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পাহারার ব্যবস্থা করবে বিএনপি। পূজা উদযাপন কমিটি, স্থানীয় নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম জেলায় গত বছর ২ হাজার ২০২টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এবার ৭২টি বেড়ে পূজার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭৪টিতে। পূজার সংখ্যা বৃদ্ধি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উৎসবের পরিসর সমপ্রসারণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এবারের দুর্গোৎসব আরও আনন্দমুখর ও নিরাপদ করতে বিএনপি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ হারুন বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, চট্টগ্রামে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তা আমাদের গর্বের বিষয়। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও আমরা একই সমাজের মানুষ। একে অন্যের সুখ–দুঃখে পাশে থাকা এবং ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। দুর্গাপূজাকে ঘিরে সেই সমপ্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি নষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
আবু সুফিয়ান এমপি বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবের আনন্দ ও সৌন্দর্য তখনই পূর্ণতা পায়, যখন প্রতিটি মানুষ নিরাপদ বোধ করেন এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখা হবে না। সভায় উপসি’ত ছিলেন হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের চট্টগ্রাম জেলার ট্রাস্টি ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ এবং কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্যসচিব বাপি দে, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, সৈয়দ আজম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহামেদুল আলম চৌধুরী রাসেল ও শিহাব উদ্দিন মুবিন।












