জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, প্রতি বছর পাহাড় ধসে প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি রোধে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা হবে। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় জমি ও আবাসনের ব্যবস্থা করবে।
গতকাল শনিবার রাতে নগরের আকবরশাহ থানার ১ নম্বর ঝিলের উপরে বায়তুন নুর জামে মসজিদ সংলগ্ন ব্র্যাক প্রাক–প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়াদের মাঝে রান্না করা খাবার ও শুকনা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন তিনি। এছাড়া বাঁশখালীতে ত্রাণ বিতরণ করেন।
আকবরশাহ : আকবরশাহ ১ নম্বর ঝিলে ব্র্যাক প্রাক–প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র ত্রাণ বিতরণকালে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে গত কয়েক দশকের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সমন্বিত উদ্যোগে দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, সরকারের প্রধান তারেক রহমান তাকে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছেন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে। তিনি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিন খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আকবরশাহ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে পাহাড় কাটা কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ এলাকায় কোনো নতুন আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, গর্ভবতী নারী, শিশু ও অসুস্থদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে।
দুপুরে সার্কিট হাউসে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, পাঁচ দিন ধরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে এসে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধাপে ধাপে পুনর্বাসন কার্যক্রমের গতি আরো বৃদ্ধি করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও সহায়তা পৌঁছাতে কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। তিনি জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে ত্রাণের পরিমাণ আরো বাড়ানো হচ্ছে। কোনো দুর্গত মানুষ যাতে সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরো ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম আরো জোরদার করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, খাল–নালা দখল ও জলপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার কারণেই দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। গতকাল অনেক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাঁশখালীর সব স্লুইচগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আজকে খুব দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, খাল পুনরুদ্ধার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। তবে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রমুখ।












