এলসিএল পণ্য নির্ধারিত সময়ে খালাস না করলে বিলম্ব ফি চার গুণ

পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১২ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালে (পিসিটি) একই কন্টেনারে একাধিক আমদানিকারকের পণ্য থাকে এমন এলসিএল (লেস দ্যান কন্টেনার লোড) কন্টেনারের পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালাস না করলে চার গুণ বিলম্ব ফি আরোপ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শেডে পণ্য পড়ে থাকায় নতুন আমদানি পণ্য সংরক্ষণে সংকট তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)

নতুন ব্যবস্থায় নির্ধারিত ১০ দিনের পরও শেডে এলসিএল পণ্য থাকলে প্রতিদিন প্রতি টনের জন্য ২৭২ টাকা সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। আগে একই ক্ষেত্রে দৈনিক ৬৮ টাকা দিতে হতো। ১ জুলাই থেকে এই হার কার্যকর হবে।

আরএসজিটির বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার সাংবাদিকদের বলেন, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আমদানিকারক দেড় থেকে তিন মাস পর্যন্ত শেডে পণ্য ফেলে রাখছেন। এতে শেডে পণ্যের জট তৈরি হচ্ছে এবং নতুন এলসিএল কন্টেনার থেকে নামানো পণ্য রাখার জায়গার সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, অনেকেই স্বল্প ভাড়ার সুযোগ নিয়ে বন্দরের শেডকে ব্যক্তিগত গুদামের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন। দীর্ঘদিন ধরে নোটিশ ও মৌখিকভাবে পণ্য দ্রুত খালাসের অনুরোধ জানানো হলেও সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিলম্ব ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় নয়। কারণ এলসিএল কার্গো টার্মিনালের মোট কার্গোর খুবই সামান্য অংশ। মূল লক্ষ্য হচ্ছে শেডে পণ্যের দ্রুত টার্নওভার নিশ্চিত করে বন্দরের অপারেশন সচল রাখা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা বলেছেন, বন্দরের প্রচলিত ট্যারিফ বিধিমালায় নির্ধারিত সময়ের বেশি শেডে পণ্য রাখলে অতিরিক্ত সংরক্ষণ ফি আরোপের সুযোগ রয়েছে। অনেক আমদানিকারক দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য না নেওয়ায় তাদের নিরুৎসাহিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ২২ বছরের চুক্তিতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনালের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং একই বছরের জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনা শুরু করে। প্রায় সাড়ে চার লাখ টিইইউএস বার্ষিক কন্টেনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতার এই টার্মিনালে ২০২৫ সালে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬৪ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৯৩ হাজার ৩৪০ টিইইউএস এবং আমদানি ৬১ হাজার ২২৪ টিইইউএস। একই সময়ে টার্মিনালে ৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করে। এই টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় কী গ্যান্ট্রি ক্রেন আমদানি করা হয়েছে। এসব ক্রেন পুরোদমে চালু হলে টার্মিনালটির বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামে মৎস্য খাতে বিপর্যয়
পরবর্তী নিবন্ধভ্যানচালক ভাই ও স্বামী পরিত্যক্তা বোনের সামনে এখন অন্ধকার