রাঙামাটির দুর্গম ফারুয়ায় ডুবে গেছে বসতঘর, দোকানপাট

পানিবন্দি ১১ হাজার মানুষ

রাঙামাটি প্রতিনিধি | রবিবার , ১২ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে রাঙামাটি বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন। ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে আছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১১ হাজার মানুষ। ডুবে গেছে কৃষি জমি, দোকানপাট ও ধর্মীয় উপাসনালয়। বিলাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, শুক্রবার রাতে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ার ফলে পুরো ইউনিয়নে প্রায় ১৫টির অধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ইউনিয়নের প্রায় ১১ হাজার মানুষ। লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীরোত্তোম তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ৬ তারিখের (সোমবার) দিকে প্রথম দফায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। পরে দ্বিতীয় দফায় গতকাল শুক্রবার রাতে প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় তলিয়ে গেছে ফারুয়া বাজার, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও গির্জা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যমুনাছড়ি বম পাড়া, তক্তানালা, একুজ্জ্যাছড়ি, ওরাছড়ি, উলুছড়ি, তারাছড়ি, গোয়াইন ছড়িসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম। নেটওয়ার্ক না থাকায় লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিলাইছড়ি পাংখোয়া পাড়ার বাসিন্দা গ্যাব্রিয়েল পাংখোয়া বলেন, আমাদের গ্রামের নিচের স্কুলটিও পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া ফারুয়ার বিভিন্ন গ্রাম পানিতে ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ২০২৩ সালের দিকে ফারুয়া ইউনিয়নে একবার বন্যা হয়েছে এবারেটা তার চেয়ে আরও বেশি ভয়াবহ মনে হচ্ছে। ঠিক মতো নেটওয়ার্ক না থাকায় কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদে আশ্রয়কেন্দ্রে খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনদের দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যার কারণে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। আমি বর্তমানে বিলাইছড়ি অবস্থান করতেছি। তীব্র স্রোতে কারণে ফারুয়ায় আমাদের মেডিকেল টীম যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি উন্নতি হলে মেডিকেল টীম ও প্রয়োজনীয় ওষুধসহ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।

এদিকে, জেলার বাঘাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন রয়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন, উপজেলায় আগের চেয়ে কিছুটা পানি কমে গেছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজন রয়েছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া বন্যা কবলিত এলাকায় দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলমান রয়েছে।

দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি : খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। দীঘিনালার নিচু এলাকা থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। গতকাল শনিবার সকাল মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ায় ইতিমধ্যে বিভিন্ন নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। যারা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে তাদের অনেকেই বাড়ি ঘরে ফিরে গেছে। দিঘিনালা মেরুং বাজার থেকে পানি অনেকটাই নিচে কমে গেছে। ধীরে ধীরে বাজারের পানি কমে যাওয়ায় সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে।প্রায় চার দিন বন্ধ থাকার পর দীঘিনালালংগদু সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

মেরুং বাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাসনাত আব্দুল হাই বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে মেরুং বাজার পানির নিচে ছিল, তবে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে এবং মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ার কারণে বাজারের পানি অনেকটাই নেমে গেছে।’

অন্যদিকে চেঙ্গী নদীর পানি কমে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি সরে গেছে। তবে নিচু এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। বন্যায় কৃষিজমি, সবজিখেত ও পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকোথাও সামান্য উন্নতি, কোথাও অবনতি
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬