পরিচয়ের ফাঁদ, চমেক হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি

১৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ১২ জুলাই, ২০২৬ at ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে পরিচয়ের ফাঁদে ফেলে চুরি করা ১৫ মাস বয়সি এক শিশুকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরের চান্দগাঁও এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে চমেক হাসপাতালের ৫ নম্বর ভবনের নিউরোসার্জারি বিভাগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে নাজেহাদ নামে শিশুটিকে কৌশলে নিয়ে যায় এক নারী। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে অপহরণের অভিযোগে নাছিমা বেগম (২৫) ও তার স্বামী বোরহান উদ্দীনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। নাছিমার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সুখচর এলাকায় এবং বোরহানের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়নের মালিনি মুরা এলাকায়।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা মোহাম্মদ সোহেল রানা তার নবজাতক সন্তানকে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। জায়গার সংকট থাকায় শিশুটির মা তাসলিমা জান্নাত নীলা ও দাদি ১৫ মাস বয়সি নাজেহাদকে নিয়ে ওয়ার্ডের বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় নাছিমা নিজেকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর বাসিন্দা এবং শিশুটির মায়ের পরিচিত বলে পরিচয় দেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তার মাধ্যমে পরিবারের আস্থা অর্জনের পর শিশুটি কান্না করলে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর ফিরে আসেননি।

পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটির সন্ধান না পেয়ে পাঁচলাইশ থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরপর হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার তদন্ত চলছে।

পুলিশ হাসপাতালসহ জনসমাগমস্থলে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে শিশুদের রেখে না যাওয়া এবং পরিচয়ের দাবিদার কাউকে যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার জন্য অভিভাবকদের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম পরিবেশ আদালতে স্থবিরতা