ঢাকার মিরপুরে গত ২ জুন ঘটে যাওয়া বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মতোই আরেকটি ঘটনা ঘটল চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নগরপাড়ায়। এবার নিজ ঘর থেকে আনুমানিক ৪ দিন আগে মারা যাওয়া আবদুর রহমান (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গাউসিয়া কমিটির চন্দনাইশ মানবিক টিমের প্রধান মাওলানা সোলাইমান ফারুকীর নেতৃত্বে সদস্যরা চন্দনাইশ থানা পুলিশের সহায়তায় গত সোমবার রাতে নিজ ঘরের খাটের উপর থেকে আবদুর রহমানের অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে। পরে চন্দনাইশ থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরণ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃদ্ধ আবদুর রহমানের ৩ ছেলে দুবাই প্রবাসী। বর্তমানে তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। তার স্ত্রীও প্রবাসের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন। আবদুর রহমানও এক সময় ছেলেদের সাথে দেশের বাইরে থাকতেন। আনুমানিক বছর–দেড়েক পূর্বে তিনি দেশে চলে আসেন। এরপর থেকেই ঘরে তিনি একাই থাকতেন এবং নিজে রান্নাবান্না করে খেতেন।
সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মো. সোলাইমান ফারুকী জানান, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার সময় তিনি খবর পান সাতবাড়িয়া নগরপাড়া গ্রামের নিজ ঘরে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত পচাগলা লাশ পড়ে আছে। তখন তিনি পুলিশের অনুমতি পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এশার নামাজের আগে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশকে বুঝিয়ে দেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সর্বশেষ আবদুর রহমানকে গত শুক্রবার এলাকায় দেখা গেছিল। এরপর তাকে আর কেউ দেখেননি। সামাজিক কোনো কারণে তিনি সমাজ থেকেও বিচ্ছিন্ন ছিলেন বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন। আবদুর রহমান সাতবাড়িয়া নগরপাড়া এলাকার মৃত কালা মিয়া সওদাগরের ছেলে।
চন্দনাইশ থানার ওসি (তদন্ত) মো. লিটন মিয়া জানান, খবর পেয়ে আমরা সোমবার সন্ধ্যা ৬টার সময় ঘটনাস্থলে যাই। পরে গাউসিয়া কমিটির মানবিক টিমের সদস্যদের সহায়তায় লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার তিনি ছেলেদের সাথে কথা বলেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার রাতে হয়তো উনি স্ট্রোক বা অন্য কোনো কারণে মারা গেছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।












