৫০ শয্যার পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে এসে এ হাসপাতালকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এজন্য আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবকাঠামোগত কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন। তিনি হাসপাতালের রান্নাঘর, টিকা কক্ষ, রোগীদের বিভিন্ন কেবিন ঘুরে দেখেন ও রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। ডাক্তারদের হাসপাতালে আসার বায়োমেট্রেক হাজিরাও তদারকি করেন। রোগীদের সঙ্গে কথা বলার সময় একজন অসহায় রোগীর হাতে নগদ টাকা দিতে দেখা যায় তাকে। পরে তিনি উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাঁচুিরয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করে পুনঃনির্মাণের জন্য এইচইডি ডিপার্টমেন্টকে নির্দেশনা দেন।
পটিয়া হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে স্বাস্থ্য খাতে কোনো উন্নয়ন করেনি, বরং লুটপাট করেছে, চুরি করেছে। তিনি পটিয়া হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সেবা চালুসহ একগুচ্ছ সেবা পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দেন। বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর সারা দেশের হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করছি। আজ এখানে আসলাম। আমরা প্রতিটি উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করতে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আগামী পনেরো দিনের ভিতর টেন্ডার হবে। সমস্ত কিছু ফাইনাল করেছি। তিনি বলেন, আজ এখানে আসলাম। তাদের তো প্রশংসা করতে হবে। হাসপাতালের শতভাগ ডাক্তার উপস্থিত, শতভাগ নার্স উপস্থিত এবং ওখানে বায়োমেট্রেক হাজিরা দেখলাম, সময়মতো ওরা আসছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মান বাড়াতে দ্রুত নতুন করে জনবল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৫ জন মেডিকেল অফিসার, ৪ জন নার্স, একজন মিডওয়াইফ, একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন রেডিওগ্রাফার, একজন বাবুর্চি, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এছাড়া তাৎক্ষণিক ঔষধ এবং ভ্যাকসিন রেবিক্সিন ৫০টি, রেবিক্স আইজি ৫০টি, ডায়ারিয়া স্যালাইন ১৫০টি, এন্টিভেনম ২০টি প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, রোগীদের সাথে আলাপ করেছি। এখানে রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখান থেকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে, ঔষধ দেওয়া হচ্ছে এবং এখানে রোগীদের খাবারের মানও ভালো বলেছে রোগীরা। এটা আমাদের একটা শান্তি যে, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে সীমাবদ্ধতার ভিতরেও আমাদের ডাক্তাররা ঠিকমতো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই যে আমি ঢাকা থেকে এসেছি, খালি হাতে আসিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, আমাকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে এখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এখানে বিভিন্ন ডাক্তার ও অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস হাসপাতালের জন্য দিয়ে গেলাম। কয়েকদিনের মধ্যে এগুলো আপনারা পাবেন। বাঁশখালীসহ আশপাশের এলাকায় ১৫১ শয্যা হয়ে যাবে; যেহেতু এখানে জনসংখ্যার চাপ বেশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত প্রিয় জায়গা। এই জায়গাগুলোতে প্রথম ব্যাচেই এ কাজগুলো বাস্তবায়ন হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে ট্রমা সেন্টার হবে কি না জানি না। চট্টগ্রামের মধ্যে অনেকগুলো নেতা আছেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়রা আছেন, হাইওয়ের উপর ট্রমা সেন্টার খুবই প্রয়োজন। এখানে অনেক অ্যাক্সিডেন্ট হয়। দূরে নিতে নিতে রোগীর অবস্থা অনেক খারাপ হয়। এ ব্যাপারে আশাহত হওয়ার কারণ নেই। এগুলো হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, হাসপাতালে ২০টা সিট রাখা হবে প্রসূতি মায়েদের জন্য। ২০টি সিট নিউ বর্ন বেবির জন্য এবং ১০টা সিট থাকবে ডায়ালাইসিস রোগীর জন্য। এছাড়া ১০টা ডায়ালাইসিস মেশিন দেওয়া হবে দুই বছরের মধ্যে। এতে ২০ জন রোগী ডায়ালাইসিস নিতে পারবে। আর চট্টগ্রামে যেতে হবে না। এছাড়া ফিজিওথেরাপি সেন্টার হবে। একটা পুরুষের জন্য, একটা মহিলার জন্য। পুরুষ ডাক্তার দেওয়া হবে, মহিলা ডাক্তারও দেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইসিও করাটা অনেক লোকবলের দরকার। অতীত সরকারের মতো শুধু থাকা–খাওয়ার জন্য এগুলো আমরা এখন হাত দিচ্ছি না। লোকবল রেডি করে যা যা করার দরকার আমরা তা করব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান, মন্ত্রীর একান্ত সচিব এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাজ্জাদ ওসমান ও পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হক।











