জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে উপাচার্য

| সোমবার , ২০ জুলাই, ২০২৬ at ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে জুলাই শহীদ দিবস ও গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় আয়োজিত স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধাঞ্জলী ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস এম নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার ও রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস এম নছরুল কদির জুলাই শহীদ ও আহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনকে প্রকৃতির বিচার উল্লেখ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল বৈষম্যমুক্ত, নিপীড়নমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে থাকবে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে, জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদই পারে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে। আজকের তরুণ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস জানতে হবে এবং তা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ভবিষ্যতের একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তার দেখা রক্তাক্ত স্মৃতিগুলো তুলে ধরেন এবং ইতিহাসের আলোকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপস্থাপন করেন। তিনি এই গণঅভ্যুত্থানকে আবেগের, আনন্দের ও বেদনার উল্লেখ করে বলেন, ইতিহাস ভুলে গেলে জাতি পথ হারায়। আমাদের দায়িত্ব হলো নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানানো, যাতে তারা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারে। জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের শেখায়অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কোনো অপরাধ নয়, বরং তা একটি নৈতিক দায়িত্ব। রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তার বক্তব্যে বলেন, নানা ঘটনা ও নানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়, যার মাধ্যমে স্বৈরাচারের দর্প চূর্ণ হয়েছে। তিনি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সবসময় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

প্রকৌশল অনুষদের সহযোগী ডিন প্রফেসর ড. সাহীদ মো. আসিফ ইকবাল তাঁর বক্তব্যে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ জসীম উদ্দীন জুলাই যোদ্ধাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রক্টর মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী জুলাইয়ের স্পিরিট, শক্তি ও শিক্ষা ধারণ করে সাম্যভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া মাহফিল পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী ডিন, সহকারী ডিন, চেয়ারম্যান ও কোঅর্ডিনেটরবৃন্দ, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষকশিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাকর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবন্যা কবলিত মানুষের পাশে রয়েছে সরকার
পরবর্তী নিবন্ধশুধু ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ নেই,পুনর্বাসনও শুরু করেছে সরকার