জীবনের বসন্ত

ঊর্মি বড়ুয়া | বুধবার , ৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

এসেছিলাম কোন এক বসন্তের দিনে দেখতে দেখতে প্রায় ৩৭টি বসন্ত পার করলাম এখন চল্লিশের কোটায়। কন্যা, কিশোরী, তরুণী পার হয়ে এখন প্রৌঢ়ার বিশেষণএখন সবাই মহিলা বলবেশারীরিক পরিবর্তন সাথে মানসিক, মেটাবলিজম ধীর হওয়া, কোলাজেন কমে যাওয়া এগুলো শারীরিক পরিবর্তনে সহায়তা করবে। যেমনকালো চুল সাদা হবে, চামড়ার টানটান ভাবটা কমে আসবে, কর্টিসল গ্রন্থির ব্যালান্স নষ্ট হবে, আর রইলো ডোপামিন ও অক্সিটোসিন গ্রন্থির ব্যাপক ওঠা পড়া এগুলো ভীষণ স্বাভাবিক। আমার শরীরই আমাকে বলে দেবে ‘ওলো সই, তুমি এখন নিজের যত্ন নাও। আমার বেলা শেষ, নিজেকে নিজের জন্য বাঁচতে হবে, সাজতে হবে’। এই বয়সটা আবেগ আর বাস্তবতা একে অপরের বিরুদ্ধাচরণ করে। দায়িত্ববোধের আড়ালে চাপা দিতে হয় কিছু পুঞ্জীভূত ইচ্ছে। এই বয়সে ভালোলাগা ঠিকমতো প্রকাশ করা যায় না, কিশোরীর আবরণ যেমন বেমানান তেমনি প্রৌঢ়ার খোলসটাও বেখাপ্পা। জীবনের জটিল মোড় বলতে পারেন, ইচ্ছেমতন হাসা যায় না, কাঁদা যায় না, বৃষ্টিতে ভিজতে পারা যায় না, চাঁদের আলোয় বেসুরো গান ধরা যায় না, অগোছালোভাবে বন্ধুত্ব পাতা যায় না, পেছনে ভাসে শুধু দায়িত্ব আর সংকোচের ছাপচিত্র, দাপ্তরিক বিষয়াদি আরো ঝামেলায় ফেলে দেয়। সিনিয়রদের কথা শুনবো বলে মনে চলে সাইক্লোন আট জুনিয়ররা পাছে ভুল না বের করে কটাক্ষের পিন ছুঁড়ে! ওফ, কেমন যেন অসহ্যময় একটা সুখী সুখী স্যাম্পলের হাসি থাকতে হবে ঠোঁটের কোণায়। নয়তো সমাজে গা বাঁচানো দায়। বয়েসটা যে চল্লিশের কোটায়! পৃথিবীটা রঙিন থেকে ফিঁকে হওয়ার সময়। অথচ, বসন্তে পাতা গজায়, রঙিন ফুল ফোটে, জীবনের বসন্ত চল্লিশেই শেষ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধশিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড
পরবর্তী নিবন্ধদূরের টানে বাহির পানে