জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডিতে সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগ

জামায়াতের দুঃখ প্রকাশ

| বুধবার , ২৪ জুন, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শেষে এক সাংবাদিককে পিটুনি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার শিকার মাহফুজুর রহমান শিশির দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আহত হয়েছেন দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেনও। এছাড়া অন্তত ১০ জন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে এ ঘটনা ঘটে। খবর বিডিনিউজের।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাঁচজন সাংবাদিক জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলাবাগান থেকে মিছিলটি বের হয়ে সোবহানবাগ মসজিদ এলাকা ঘুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আয়োজিত ওই কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশ চলাকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার মাহফুজুর রহমান শিশির বলেন, সমাবেশে একাধিক নেতা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল কয়েকজনের বক্তব্য দিলে সংবাদ সংগ্রহে সুবিধা হবে বলে অনুরোধ করা হয়। তখন একজন বক্তা বলেন, ‘সবার বক্তব্যই নিতে হবে, না হলে চলে যেতে হবে’। আমি এর প্রতিবাদ করে বলি, আমাদের সঙ্গে এভাবে কথা বলছেন কেন? আমরা তো আপনাদের কর্মী নই। এরপরই আমাকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে মারধর করা হয়। ভুক্তভোগী এ সাংবাদিক বলেন, তাকে রাস্তায় ফেলে কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়েছে। পরে অন্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে কাছের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়েছে।

জামায়াতের বিবৃতি : রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এই ঘটনায় দায়ী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি চলাকালে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার যে অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, আমরা তার জন্য আন্তরিকভাবে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জামায়াত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং যেকোনো গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজ বিনির্মাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া বা কোনো ধরনের সহিংসতা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনষ্ট তেল থেকে তৈরি হচ্ছিল লুব অয়েল
পরবর্তী নিবন্ধডেঙ্গু প্রতিরোধে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত