ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টেস্ট জিতে বেশ চনমনে আছে সফররত বাংলাদেশ দল। সে সিরিজ সমতায় শেষ হয়েছে। এবার আরেক ফরমেটের লড়াই। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে আজ থেকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর বাংলাদেশের লক্ষ্য জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ চার ওয়ানডে সিরিজেই জয় পেয়েছিল টাইগাররা। সেন্ট কিটসের বাসেটেরের ওয়ার্নার পার্কে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে। এই সিরিজে ভালো করতে মুখিয়ে সফরকারীরা।
৬ বছর আগে সেন্ট কিটসে খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছিল বাংলাদেশের। এটি বাংলাদেশের পয়মন্ত ভেন্যু। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে খেলে দুটিতেই জয় পেয়েছে। সবশেষ ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে সিরিজ নিশ্চিত করা ম্যাচটি খেলেছিল সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে। সেই সুখস্মৃতি অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে মিরাজদের। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ অবশ্য অতীতের দিকে না থাকিয়ে একে অপরের সমর্থন নিয়ে ম্যাচ জেতার কথা জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, আমরা বিগত দিনে কী করেছি তা বড় কথা নয়। সামনে আমাদের জন্য বড় সুযোগ রয়েছে। সবাই একে অপরকে সমর্থন করলে দল হিসেবে খেলতে পারবো এবং ভালো ফল আনতে পারবো।
টেস্ট সিরিজ দিয়ে এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শুরু করে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ ১–১ সমতায় শেষ করে টাইগাররা। ২০০৯ সালের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওয়ানডে ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আধিপত্য বিস্তার করে খেলে বাংলাদেশ। সর্বশেষ চারটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের সবগুলোতেই জিতেছে বাংলাদেশ। দু’টি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এবং দু’টি ঘরের মাঠে। এরমধ্যে শেষ দুই সিরিজে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে এবং ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩–০ ব্যবধানে জিতেছিলো টাইগাররা। সর্বশেষ ২০১৪ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করেছিলো ক্যারিবীয়রা। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জিততে না পারার বন্ধ্যাত্ব ঘোচানোর চ্যালেঞ্জ ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
এখন পর্যন্ত ওয়ানডে ফরম্যাটে ৪৪ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ–ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে ২১টি করে ম্যাচ জিতেছে দু’দল। বাকি দু’টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। এবার সিরিজের প্রথম ম্যাচটি দু’দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ ম্যাচ জিতলেই মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে যাবে বিজয়ী দল। জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ড ছাড়া টেস্ট দলগুলোর কারো বিপক্ষেই মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ের দিক এগিয়ে নেই বাংলাদেশ। আজ ম্যাচ জিততে পারলে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলুড়ে কোন দলের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের স্বাদ পাবে টাইগাররা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে আগামী বছরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে এটিই শেষ ওয়ানডে সিরিজ টাইগারদের। এই সিরিজ দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য নিজেদের সেরা দল খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে তারা। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, আমাদের সামনে এই ওয়ানডে সিরিজ এমন একটি ফরম্যাট, যেটাতে আমরা খেলতে পছন্দ করি। এই মুহূর্তে আমাদের ভালো পেস বোলার আছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কীভাবে উন্নতি করা যায়, সেটি নিয়ে আমরা ভাবছি। কখনও–কখনও আমরা ভুল করি, কিন্তু আমরা সেখান থেকেই শিক্ষা নিই।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে কুঁচকির ইনজুরিতে পড়েন নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে না পারায় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিরাজ। ইনজুরির কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নেই অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম এবং মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। এদিকে, গ্লোবাল সুপার লিগে খেলা তানজিম হাসান সাকিব দলের সঙ্গে আগেই যোগ দিতে পেরেছেন। রংপুর রাইডার্স দলের হয়ে খেলা সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, আফিফ হোসেনরা দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। জ্যামাইকা টেস্টে দারুণ বোলিং করে নিজের জাত চেনানো নাহিদ রানা ওয়ানডে দলেও আছেন। দলের প্রথম সারির কিছু খেলোয়াড়দের ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে টেস্ট সিরিজ সমতায় শেষ করায় উজ্জীবিত বাংলাদেশ। তাই পছন্দের ওয়ানডে ফরম্যাটে ভালো পারফরমেন্স করতে আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা।














