চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ৭২৩ আপ উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বিলম্বে গত সোমবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিটে সিলেট রেলস্টেশনে পৌঁছেছে। এর ফলে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ৭২০ ডাউন পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। যার ফলে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়তে হয়েছে। গতকাল ট্রেনটি চট্টগ্রাম এসে পৌঁছেছে ৩ ঘণ্টারও বেশি বিলম্বে। অথচ ট্রেনটি সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সিলেট থেকে ছাড়ার নির্ধারিত সময়সূচি ছিল।
এভাবে চরম ভোগান্তির মধ্যে চলছে চট্টগ্রাম–সিলেটের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের ট্রেন চলাচল। চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে ট্রেন চলাচলের ভোগান্তির চিত্র এটি কেবল একদিনের চিত্র নয়। এভাবে দিনের পর দিন মাসের পর মাস এই রুটের যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন গত সোমবারের উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সিলেটগামী যাত্রী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম টিটু। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–সিলেট রুটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে বছরের পর বছর চলাচলরত পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিলম্ব হলেও বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ আমলে নিচ্ছে না।
চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রী হোটেল ব্যবসায়ী রায়হান ও স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুস সবুর জানান, চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে মাত্র এক জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। অথচ এই রুটে ট্রেনের যাত্রীর চাপ সীমাহীন। দুটি ট্রেনেই টিকিট সংকট লেগে থাকে। এই রুটে ট্রেন বাড়ানোর জন্য যাত্রীরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বছরের পর বছর ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে ট্রেনের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার জানান, চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে সব সময়ে যাত্রীদের চাপ থাকে বেশি। সিলেট থেকে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্দিষ্ট সময়ে এসে না পৌঁছলে উদয়ন ছেড়ে যায় না। এই রুটে ট্রেন চলাচল প্রায় সময় বিলম্ব হয়।
সিলেটের সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টার জানায়, সিলেট রুটে লোকোমোটিভ সংকট, দুর্বল ইঞ্জিন এবং কানেক্টিং পাওয়ার ব্যবহার করে ট্রেন পরিচালনার কারণে প্রতিদিনই পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে। এতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, গত সোমবার উদয়ন এক্সপ্রেসের রেকটি সিলেট ইয়ার্ডে অবস্থান করছিল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চাইলে যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই রেক ব্যবহার করে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়েই চালাতে পারত। এতে ট্রেনটি শিডিউল অনুযায়ী চলাচল করতে সক্ষম হতো এবং যাত্রীদের ভোগান্তিও কমে আসত।
রেলওয়ের ওয়েবসাইট, স্টেশন মাস্টারের দেওয়া তথ্য এবং স্টেশনের ঘোষণায় জানানো হয়েছিল, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে ট্রেনটি ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট বিলম্বে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর, দুপুর ১টা ২ মিনিটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস সিলেট স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় দ্রুত পর্যাপ্ত ইঞ্জিন সরবরাহ, কার্যকর ইঞ্জিন সংযোজন এবং সময়সূচি স্বাভাবিক করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান যাত্রীরা।











