এবারের ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম জেলায় গত বছরের তুলনায় ৪১ হাজার ৬১৯টি পশু কম কোরবানি হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, এবার কোরবানি হয়েছে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ২১২টি পশু। ২০২৫ সালে কোরবানি করা হয়েছিল ৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৩১টি পশু। এর আগে ২০২৫ সালেও কোরবানি করা পশুর সংখ্যা কমেছিল তার আগের বছরের চেয়ে। চলতি বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার গরু বিক্রি হয়নি বলেও জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে। এবারের কোরবানির ঈদে চট্টগ্রামে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি পশুর চাহিদার কথা বলেছিল অধিদপ্তর। খবর বিডিনিউজের।
২০২৪ সালে চট্টগ্রাম জেলায় গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও অন্যান্য পশু মিলিয়ে মোট কোরবানি হয়েছিল ৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৬৮টি পশু। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৩১টিতে। আর্থিক সংকট ও গরুর দাম বাড়তি হওয়ার কারণে এবার কোরবানি কম হয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
চট্টগ্রামের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আলমগীর বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যে অর্থনৈতিক সংকট ছিল সেটা এখন ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে। মূলত অর্থনৈতিক কারণেই এবারো কোরবানি কম হয়েছে।
আগে যে ব্যক্তি একা একটা গরু কোরবানি দিয়েছেন, এবার হয়ত তারা দুই জন মিলে একটা গরু কোরবানি দিয়েছেন। আবার কেউ হয়ত দুই–তিনজন মিলে একটা গরু কোরবানি দিতেন। তারা এবার পাঁচজন মিলে একটা গরু কোরবানি দিয়েছেন। এভাবে কোরবানি হওয়া পশুর সংখ্যা কমেছে। চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী এলাকার খামারি এনামুল হক বলেন, গো খাদ্যের দামসহ অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার গরুভেদে দাম ১০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি ছিল। কিন্তু আর্থিক অবস্থার কারণে ক্রেতাদের অনেকের পক্ষে বাড়তি দামে একা গরু কেনা সম্ভব হয়নি। তাই তারা হয়ত ভাগে কোরবানি দিয়েছেন।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ার বাসিন্দা আনিসুল ইসলাম বলেন, গত বছর কোরবানির গরু কিনেছিলাম ৯০ হাজার টাকায়। এবার গরু কিনেছি ১ লাখ ১০ হাজার টাকায়। চট্টগ্রাম জেলায় এবার ধার্য চাহিদার চেয়ে ৩৫ হাজার কম গরু প্রস্তুত ছিল বলে কোরবানির আগে তথ্য দিয়েছিল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। সেই ঘাটতি দেশের অন্যান্য জেলা থেকে আসা গরুতে পূরণ হবে ধারণা ছিল তাদের। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, এবার দেশের অন্যান্য জেলা থেকে চট্টগ্রামে গরু এসেছে ৬০ হাজারের মত।
কোরবানির ঈদের আগের দিন পশুর হাট ঘুরে পরিস্থিতি দেখার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শেষ দিন চট্টগ্রাম নগরীর হাটগুলোতে প্রায় ২০ হাজার গরু অবিক্রীত ছিল। এছাড়া উপজেলার হাটগুলোতেও অনেক গরু বিক্রি হয়নি। সব মিলিয়ে পুরো জেলায় হাটে তোলা গরুর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার গরু বিক্রি হয়নি। এতে ৮০ শতাংশ খামারির কোনো ক্ষতি হয়নি। কারণ খামারিরা কোরবানির দিনের পাঁচ–ছয় দিন আগেই গরু বিক্রি করে ফেলেছেন। যারা অধিক লাভের আশায় শেষ সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন, তারা হয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে যারা মধ্যস্বত্বভোগী ও বেপারী তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেপারীরা খামারিদের কাছ থেকে গরু কিনে নিয়ে হাটে আনেন এবং বেশি লাভের আশায় শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেন।”
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা এলাকার ক্ষুদ্র গরু খামারি আবদুল আজিজ কোরবানির আগে বলেছিলেন, চার মাস আগে থেকে তিনি ১৬টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। বৃহস্পতিবার এ খামারি বলেন, কোরবানির তিনদিন আগেই তার সব গরু বিক্রি হয়ে যায়। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে এবার জেলায় গরু কোরবানি হয়েছে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪০টি। মহিষ কোরবানি হয়েছে ৩০ হাজার ৩২০টি। ছাগল কোরবানি হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৩৫০টি। ভেড়া কোরবানি হয়েছে ৩৯ হাজার ৬৫০টি। এ ছাড়া দুম্বা ও গাড়ল কোরবানি হয়েছে ১৫২টি। এর আগে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম জেলায় গরু কোরবানি হয়েছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ২টি। মহিষ কোরবানি হয়েছিল ৫০ হাজার ৪৮৮টি। এ ছাড়া ২ লাখ ১৫ হাজার ৭২৬টি ছাগল, ৪১ হাজার ৪০৯টি ভেড়া এবং অন্যান্য ২০৬টি পশু কোরবানি হয়েছিল।












