গাজা যুদ্ধের পর প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা

| রবিবার , ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

পশ্চিম তীর ও গাজার এক শহরে স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন কয়েক লাখ ফিলিস্তিনি। শনিবারের ভোট দুই দশক পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় নির্বাচনের আবহ ফিরিয়েছে, তাও এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েল যে কোনো মূল্যে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সম্ভাবন্য নস্যাৎ করতে চায়। খবর বিডিনিউজের।

পশ্চিম তীরভিত্তিক প্যালেস্টিনিয়ান অথরিটির (পিএ) আশা, নির্বাচনে গাজার দেইর আলবালাহ’র প্রতীকী অন্তর্ভুক্তি যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ডটিতে তার কর্তৃত্ব ফেরাতে ভূমিকা রাখবে। ২০০৭ সালে হামাস গাজা থেকে তাদের ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভূখণ্ডটিতে যারা এখনও নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সংগ্রাম করছেন, সেই গাজাবাসীরাই ভোট দেওয়ার সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। জন্মের পর থেকে আমি নির্বাচনের কথা শুনে আসছি।

আমরা অংশ নিতে আগ্রহী, যাতে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বাস্তবতা বদলাতে পারি, শহরে তাঁবুর ঘরের বাইরে পরিবারের রান্নার হাঁড়ির পাশে বসে এমনটাই বললেন আধাম আলবারদিনি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ভূখণ্ডটি আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে থেমে থেমে কিছু আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত খুব বেশি অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপ ও আরব দেশগুলো গাজায় ফের পিএর শাসন এবং গাজা, পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরকে নিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র চাইলেও ইসরায়েল ও তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বাধায় তা মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। পশ্চিম তীর এখনও ইসরায়েলের দখলে আছে, তার মধ্যেই সীমিত আকারে শাসন চালায় পিএ। পশ্চিমা কূটনীতিকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন দুই দশকের মধ্যে পুরো ফিলিস্তিনজুড়ে একটি জাতীয় নির্বাচনের পথ করে দিতে পারে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোসহ সংস্কারের পথে সহযোগিতা করতে পারে। দুই বছরেরও বেশি সময় আগে গাজায় হামাসইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম কোনো নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। পশ্চিম তীরে সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে চার বছর আগে। ইসরায়েল আগে পিএর হয়ে ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে কর আদায় করতো, কিন্তু তারা এখন ওই করের অর্থ আর পিএকে দিচ্ছে না।

তেল আবিবের যুক্তি হচ্ছে, পিএ ওই করের অর্থ থেকে কারাবন্দি ও ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহতদের পরিবারকে নানান সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে হামলাকেই উৎসাহিত করছে। অর্থ না থাকায় পিএ এখন প্রশাসনের কর্মীদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। ইসরায়েলের সরকার এখন সেটলারদের পশ্চিম তীরের আরও বেশি জমি দখলেও নানাভাবে উৎসাহিত করছে। তাদের উগ্রজাতীয়তাবাদী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ বলেছেন, আমরা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের চিন্তাকে ধারাবাহিকভাবে হত্যা করতে থাকবো।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুক্তরাষ্ট্রের হাতে জব্দ নৌযান তৌস্কায় ছিল ডায়ালাইসিস, মেডিকেল সরঞ্জাম
পরবর্তী নিবন্ধযুদ্ধ থেকে সম্মানজনক প্রস্থান খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র : ইরান