কালুরঘাটে ফেরি সার্ভিস চালাতে আগামী তিন বছরের জন্য ইজারাদার নির্বাচন করেছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত তালিকা যাচাই–বাছাই করে আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে এই ফেরি সার্ভিস ইজারা দিতে সুপারিশ করেছে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি। এ দর গতবারের চেয়ে তিন গুণ বেশি। জানা গেছে, সুপারিশ অনুমোদন করেছে মন্ত্রণালয়। চিঠি পেলে ওই প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন বছর ফেরি থেকে ইজারা আদায়ের লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে দুই দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। প্রথম দফায় কাঙ্ক্ষিত দরদাতা না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রথম এবং দ্বিতীয় দফা টেন্ডারে আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ফেরি ইজারা নিতে দরপত্র দাখিল করে। দ্বিতীয় দফায় তারা গতবারের চেয়ে তিন গুণ বেশি ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করে। প্রথম দফা টেন্ডারে আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার দর দাখিল করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দরদাতা ছিল।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের রহমতগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে গত ২০ আগস্ট দাখিলকৃত টেন্ডার ওপেন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রম তালিকায় দেখা যায় আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজ সর্বোচ্চ ৭ কোটি ১ লাখ টাকায় ফেরির ইজারা নিতে দরপত্র দাখিল করে। পরে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে এই প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে উল্লেখ করে ফেরি সার্ভিস ইজারা দিতে সুপারিশের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে এই ফেরি সার্ভিস ইজারা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, কালুরঘাট ফেরির ইজারা আদায়ের জন্য টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আমরা এখনো চিঠি পাইনি। এই সপ্তাহের মধ্যে চিঠি পেলে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান আমানত শাহ এন্টারপ্রাইজকে ফেরি সার্ভিস ইজারা আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের রহমতগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩ বছরের জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত কালুরঘাট ফেরি ইজারা দেওয়ার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার পর তারা ২০২৯ সাল পর্যন্ত কালুরঘাট ফেরির ইজারা আদায় করবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রাম রহমতগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কালুরঘাট ফেরির চলমান ইজারা প্রক্রিয়ার মেয়াদ গত ১৮ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। টোল নীতিমালা অনুযায়ী, চলমান ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার ন্যূনতম চার মাস পূর্বে নতুন ইজারাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আগামী তিন বছরের জন্য ফেরির টোল আদায়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
সূত্র জানায়, এর আগে ২০২৩ সালে কালুরঘাট ফেরি সার্ভিস চালাতে ইজারাদার নির্বাচন করতে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর দপ্তর টেন্ডার আহ্বান করেছিল। সর্বশেষ ২ কোটি ১৪ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে আমরিন অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য ফেরি সার্ভিস ইজারা দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠান ফেরি থেকে ইজারা আদায় করে আসছে।













