কালবৈশাখী ঝড়ে কক্সবাজারে লবণ উৎপাদন ব্যাহত, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

পেকুয়া প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল, ২০২৬ at ৭:২০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের একমাত্র লবণ উৎপাদনকারী জেলা কক্সবাজারে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব্যাহত হয়ে পড়েছে লবণ উৎপাদন। একই সঙ্গে চাষিরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে বিসিক। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে লবণ উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন।

বাংলাদেশে লবণ উৎপাদন হয় মূলত কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রামের সামান্য অংশে। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কিছু এলাকায় উৎপাদিত লবণ দিয়ে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের মৌসুম। এ বছর যথাসময়ে উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়। তবে গত কয়েক দিন ধরে কক্সবাজার এলাকায় বিরূপ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে হঠাৎ কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

পেকুয়ার রাজাখালী এলাকার লবণচাষি আব্দুল হালিম বলেন, এ বছর মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হলেও কুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন ভালো হয়নি। যেটুকু লবণ উৎপাদন হয়েছে, তাও ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। মৌসুমের শেষ দিকে এসে উৎপাদন ভালো হচ্ছিল, কিন্তু গত দুই দিনের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে তা বন্ধ হয়ে গেছে। কবে আবার মাঠে নামতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

পেকুয়ার মগনামা এলাকার লবণচাষি মোহাম্মদ এনাম বলেন, মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ কালবৈশাখী শুরু হয়। রাতে ঝড় হওয়ায় পরদিন আর কোনো লবণ উৎপাদন করা যায়নি। উজানটিয়া এলাকার লবণচাষি ইসমাঈল বলেন, বর্গাচাষি হিসেবে তিনি লবণ চাষ করছেন। বর্তমানে প্রতিমণ লবণের দাম প্রায় ২০০ টাকা, যা দিয়ে উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন। গত দুই দিনের কালবৈশাখীতে বিপুল পরিমাণ উৎপাদিত লবণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে এবং কবে আবার মাঠে গিয়ে লবণ তুলতে পারবেন, তা অনিশ্চিত।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, মঙ্গলবার ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত কালবৈশাখীর পাশাপাশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের কালবৈশাখীতে বৃষ্টির তুলনায় বাতাসের প্রভাব বেশি থাকতে পারে।

বিসিকের লবণ প্রকল্পের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কিছু অংশ মিলিয়ে ৬৯ হাজার একর জমিতে ৪১ হাজার ৩৫৫ জন চাষি লবণ চাষে নিয়োজিত রয়েছেন। চলতি বছর দেশে লবণের চাহিদা ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৭২ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে পুরোনো ও নতুন মিলে মজুত রয়েছে ১০ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন। চলতি বছর দেশে লবণের চাহিদা রয়েছে ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন।

পেকুয়া উপজেলা লবণ, মৎস্য ও কৃষি কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবুল হাসেম বলেন, একদিকে চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যেই কালবৈশাখীর ঝড়ে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে লবণচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত।

তিনি বলেন, বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং বিদেশ থেকে লবণ আমদানির কারণে চাষিরা আগ্রহ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা উৎপাদনে বিমুখ হয়ে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশিদের ভিসা দিতে ১৩ দেশের যৌথ নির্দেশনা
পরবর্তী নিবন্ধআরও ৪টি নতুন জাহাজ কেনার উদ্যোগ বিএসসির