কম পুঁজিতে লাভ

রাঙ্গুনিয়ায় বিলাতি ধনেপাতা চাষে আগ্রহ বাড়ছে

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ২২ জুলাই, ২০২৩ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

স্বল্প পুঁজিতে লাভবান হওয়ায় রাঙ্গুনিয়ায় বিলাতি ধনেপাতা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। শুধুমাত্র এই বিলাতি ধনিয়ার জন্য আলাদা বাজার বসছে রাঙ্গুনিয়ায়। তবে এ বছর ফলন ভালো হলেও চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বলে জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পাহাড়ি জমিতে প্রতিবছর বিলাতি ধনিয়া পাতার চাষ করে আসছেন রাঙ্গুনিয়ার শত শত বাঙ্গালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভের কারণে এই চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি বিলাতি ধনিয়া পাতার সুনাম রয়েছে সর্বত্র। গত বছর ২৫ হেক্টর জমিতে বিলাতি ধনিয়া পাতার আবাদ হয়েছিলো। এ বছর উপজেলার ইসলামপুর, রাজানগর, দক্ষিণ রাজানগর, পদুয়া, কোদালা ইউনিয়নে আবাদ হয়েছে ৩৫ হেক্টর জমিতে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রৈস্যাবিলি গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠে চাষ হয়েছে বিলাতি ধনিয়া পাতার। ঘ্রাণ ছড়িয়েছে অনেক দূর। বর্তমানে চলছে ফসল উত্তোলন।

কথা হয় চাষি বিশুমোহন তঞ্চঙ্গ্যা, মন্টু তঞ্চঙ্গ্যা, যোগেশ বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা, হাছান মুরাদ, বেলাল উদ্দিন ও রাসেল রানার সাথে। তারা জানান, চলতি বছরে বিলাতি ধনিয়া পাতার ব্যাপক চাষাবাদ হলেও দামে হতাশ কৃষকরা। যেখানে গত বছর প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে সেখানে এ বছর বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার জন্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকেই দায়ী করেছেন চাষিরা। এদিকে উপজেলার ইসলামপুরের বেতছড়ি ও রৈস্যাবিলি এলাকায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসে অস্থায়ী বিলাতি ধনিয়ার হাট। এছাড়াও প্রতিদিন সকালে রানিরহাট বাজারে বিলাতি ধনিয়া পাইকারি বিক্রয় হয়। স্থানীয় পাইকাররা এসব ধনিয়া চট্টগ্রামফেনী, কুমিল্লা, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন।

স্থানীয়রা জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ধরনের চাষাবাদে কৃষকরা লাভবান হবেন। আর ধনিয়া পাতা চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া দরকার বলে মনে করেন তারা।

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সহিদুজ্জামান বলেন, কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি। উপজেলায় প্রচুর বিলাতি ধনিয়া পাতা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে এখানে উৎপানের পরিমাণ আরও বাড়ানো যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাংলাদেশে শাখা খুলতে চায় রাশিয়ার এসবার ব্যাংক
পরবর্তী নিবন্ধনাশকতার মামলার আসামি শিবির ক্যাডার লোহাগাড়ায় গ্রেপ্তার