সারাদেশে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আজ

চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় টিকা পাবে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫২ জন শিশু

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ২০ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় আজ সোমবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে জরুরি হামরুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকা দেওয়া হবে। চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলায় এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫২ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে বিদ্যালয়পড়ুয়া শিশু রয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৫৫ জন এবং কমিউনিটি পর্যায়ের শিশু ৬ লাখ ১৬ হাজার ১৯৭ জন। ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১০ জুন পর্যন্ত ১১ কার্যদিবসে জেলার ২০০টি ইউনিয়ন ও ৬০০টি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এজন্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮১৫টি টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করবেন ৯২৯ জন মাঠকর্মী, ৫২৪ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) এবং ৩৭১ জন মেডিকেল অফিসার।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় ১২ লাখ ডোজ টিকার বিপরীতে এরই মধ্যে ৬ লাখ ৩২ হাজার ডোজ টিকা পৌঁছেছে। বাকি টিকা পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। তবে এতে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো বিঘ্ন হবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। শিশুদের নিরাপদ রাখতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে আগেই টিকা নেওয়া থাকলেও অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য এই ক্যাম্পেইনে আবারও টিকা নিতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ডান উরুর মধ্যভাগের বাইরের অংশে এবং ২ থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ডান বাহুর ওপরের অংশে চামড়ার নিচে টিকা দেওয়া হবে।

তবে অসুস্থ বা হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে না। সুস্থ হওয়ার পর ক্যাম্পেইন চলাকালে নিকটস্থ যে কোনো কেন্দ্রে টিকা নেওয়া যাবে। একই সঙ্গে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোনো শিশুকে টিকা দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

অভিভাবকদের সুবিধায় অনলাইনে নিবন্ধনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে টিকার কার্ড সংগ্রহ করা যাবে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমেরিকার তৈরি পিস্তল নিয়ে ধরা চট্টগ্রামের পাঁচ মামলার আসামি
পরবর্তী নিবন্ধবাস ভাড়া কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির