ককরোচ পার্টির সংসদমুখী মিছিলে টিয়ার গ্যাস, দিল্লি রণক্ষেত্র

| মঙ্গলবার , ২১ জুলাই, ২০২৬ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

পুলিশের অনুমতি ছিল না, জারি ছিল কড়া নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু সবকিছু উপেক্ষা করেই গতকাল সোমবার সকালে গোটা ভারতজোড়া ক্ষোভ যেন এসে আছড়ে পড়ে রাজধানী দিল্লির রাজপথে।

মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’এর অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সংসদ অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকদের মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নয়াদিল্লি। পুলিশের অনুমতি না থাকার পরও সিজেপি’র প্রায় ২০ হাজার সমর্থক সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে এই ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল। খবর বিডিনিউজের।

সিজেপি সমর্থকরা দিল্লির ভারি বৃষ্টির মধ্যেই গতকাল যন্তর মন্তর থেকে মিছিল শুরু করে। কর্মসূচির শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি পোস্টে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারি বৃষ্টি ও কড়া নিরাপত্তাও আজ ককরোচদের (তেলাপোকা) থামাতে পারবে না। মিছিল চলাকালীন অনেক বিক্ষোভকারীকে রেইনকোট পরা অবস্থায় এবং হাতে ভারতের সংবিধান ও জাতীয় পতাকা নিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। মিছিল থেকে বিক্ষোভকারীরা হিন্দিতে ‘ভাগো, ভাগো’, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ভাগো’ এবং ‘নরেন্দ্র মোদী ভাগো’ বলে স্লোগান দেন। এসব স্লোগানের মাধ্যমে তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পদত্যাগ দাবি করেন। দিল্লির পুলিশ জানিয়েছে, তাদের নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা উপেক্ষা করেই ককরোচ পার্টির তরুণ সদস্যরা ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ছুড়লে দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেন্ট্রাল দিল্লির কিছু অংশে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আগে সংসদ মার্গ থানার কাছেই যেকোনও মিছিল আটকে দেওয়া হত। কিন্তু এবার কাঁদানে গ্যাস, লাঠিচার্জের পরও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ পৌঁছে যায় সংসদ ভবনের গেট পর্যন্ত। নতুন সংসদ ভবন হওয়ার পর এই প্রথম কোনও দল সংসদের সামনে পর্যন্ত পৌঁছতে পারল। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সিজেপি তাদের সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, শান্তি ও অহিংসার মাধ্যমেই এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া সম্ভব।

রাজপথের রণক্ষেত্রের প্রভাব সরাসরি পড়েছে দিল্লির গণপরিবহন ব্যবস্থার ওপর। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন মধ্য দিল্লির ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাধারণ যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। বন্ধ করে দেওয়া স্টেশনগুলো হয়েছে রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্টেশনগুলোতে ট্রেন থামবে না এবং প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়ে। এতে দিল্লির অন্যতম ব্যস্ততম ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন রাজীব চকে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাজার হাজার নিত্যযাত্রী বন্ধ গেটের বাইরে আটকে পড়েন, নয়ত দীর্ঘ ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে থাকেন। বিশেষ করে দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন রাজীব চকের বন্ধ প্রবেশ ও বহির্গমন গেটগুলোর সামনে শত শত যাত্রীকে ভিড় করতে দেখা যায়।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্র ধরে গত মে মাসে অভিজিৎ দিপকে নামের এক তরুণ ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)- নামক ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তার পর এটি একটি বড় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেয় এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল ও অধিকারকর্মীদের সমর্থন লাভ করে। গত দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর ৩০ বছর বয়সী দিপকে গত জুনে ভারতে ফিরে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে আমরণ অনশনে বসা ৫৯ বছর বয়সী বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে গত শনিবার স্বাস্থ্যের কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে স্থানান্তর করে পুলিশ। হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষা খাতের ব্যর্থতার দায় না নেওয়া পর্যন্ত অথবা সংসদ সদস্যরা এই বিষয়টি সংসদে তোলার নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাটিচাপা পড়েছে বই, ছেলেমেয়ের লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কিত মিনু
পরবর্তী নিবন্ধনগরে যানজটের কারণ বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপর্যাপ্ত পার্কিং