প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করে চিকিৎসাব্যবস্থাকে প্রতিরোধভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তর করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী তিন থেকে চার বছরে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, সারাদেশে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা এবং মা ও নবজাতকের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, চলতি মাসে পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইফসের ৩৪তম আন্তর্জাতিক কংগ্রেসে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ১২২টি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শুধু রোগের চিকিৎসানির্ভর না রেখে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রিক করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট এবং প্রতিটি শহরে ওয়ার্ডে একই ধরনের ইউনিট গড়ে তোলা হবে। এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা থাকবে এবং অন্তত দুজন করে মিডওয়াইফ দায়িত্ব পালন করবেন। খবর বিডিনিউজের।
তিনি জানান, বর্তমানে ৩০ থেকে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সেখানে জটিল প্রসব ও নবজাতকের নিবিড় সেবাসহ পূর্ণাঙ্গ মাতৃসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে রোগীদের উচ্চতর কেন্দ্রে যেতে না হয়। স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে মাত্র আড়াই থেকে তিন হাজার মিডওয়াইফ রয়েছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ সংকট কাটিয়ে উঠতে আগামী এক বছরের মধ্যেই মোট লক্ষ্যমাত্রার অন্তত এক–তৃতীয়াংশ মিডওয়াইফ নিয়োগের চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে খুলনা, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নোয়াখালী্তএই পাঁচ জেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে। সেখানে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড, সমন্বিত রোগী ব্যবস্থাপনা ও রেফারেল ব্যবস্থাও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।












