ভ্রমণসাহিত্য নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম অনেক আগে। তাতে বলেছিলাম, কেউ ভ্রমণ করে, কেউ ভ্রমণ সাহিত্য পড়ে, আবার কেউ সাহিত্যভ্রমণে যায়। বলা নিষ্প্রয়োজন যে, আমরা প্রায় সবাই কমবেশি ভ্রমণপিপাসু। ভ্রমণে যাওয়ার অকৃত্রিম ইচ্ছে সবার মনে খেলা করে। প্রায় সকলেই লালন করে ভ্রমণের তৃষ্ণা। সেই তৃষ্ণাকে তৃপ্ত করেন অনেকে। কেউ পারেন, কেউ পারেন না। ভ্রমণের জন্য প্রয়োজন তিনটি ‘স’ : ‘সময়’, ‘স্বাস্থ্য’ ও ‘সামর্থ্য’। এই তিন ‘স’–এর সমন্বয় ঘটাতে পারলেই ভ্রমণ–তৃষ্ণার পরিসমাপ্তি হবে। অন্নদাশঙ্কর রায় বলেছিলেন, ‘ভ্রমণ থেকেই হয় ভ্রমণ কাহিনী কিন্তু ভ্রমণকারীদের সকলের হাত দিয়ে নয়।’ এই কথার তাৎপর্য ব্যাখ্যা না করেও বলা যায়, অনেকেই ভ্রমণ করে কিন্তু সবাই ভ্রমণসাহিত্য লিখতে পারে না। ‘গভীর জীবন পর্যবেক্ষণ, প্রগাঢ় মমতায় প্রকৃতি অবলোকন এবং বারবার পড়ার কৌতূহল জাগিয়ে তোলে যে ভ্রমণ গল্প তাকেই বলা চলে ভ্রমণসাহিত্য। শুধু ঘোরার গল্প করলেই হবে না, তার মধ্যে সাহিত্যের নির্যাস থাকতে হবে তবেই সে ভ্রমণসাহিত্য পাঠে, হাওয়া বদলের স্বাদ পাওয়া যাবে।’
রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘ভ্রমণবৃত্তান্তের একটা মস্ত সুবিধা এই যে, তার মধ্যে অবিশ্রাম গতি আছে অথচ প্লটের বন্ধন নেই–মনের একটি অবারিত স্বাধীনতা পাওয়া যায়।’ সে স্বাধীনতা থেকে লেখকরা তাদের কাজ করে যাচ্ছেন। বলা বাহুল্য, আমাদের বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার মতো ভ্রমণসাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভ্রমণসাহিত্য বিষয়ক লেখাগুলোতে আমরা প্রত্যক্ষ করি তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও প্রয়াস। ‘য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র’, ‘য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী’, ‘পথের সঞ্চয়’, ‘জাপান যাত্রী’, ‘পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী’, ‘রাশিয়ার চিঠি’ প্রভৃতি বইগুলো আমাদের তৃপ্ত করে। এসব বইয়ে রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন স্থানের বর্ণনা, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সেসব স্থানের ‘অন্তর্লোকের দিকটিও’ ফুটিয়ে তুলেছেন।
যদিও বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ভ্রমণসাহিত্য রচয়িতা হিসেবে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কেই বলা হয়ে থাকে। তাঁর ভ্রমণকাহিনির নাম ‘পালামৌ’। সুকুমার সেন ‘পালামৌ’ সম্পর্কে বলেছেন, ‘বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় ভাই সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ’কে বাংলা গদ্য সাহিত্যে প্রথম সার্থক ভ্রমণকাহিনি হিসেবে গণ্য করা যায়।’
বাংলা ভ্রমণসাহিত্যিকদের নাম বললে অবারিতভাবে দুটো নাম চলে আসে। নাম দুটো হলো সৈয়দ মুজতবা আলী ও অন্নদাশঙ্কর রায়। সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত সৃষ্টি ‘দেশে বিদেশে’। তাঁর ভ্রমণসাহিত্য জীবন ঘনিষ্ঠ ও রসসিক্ত। তাঁর ভাষা ও রচনাশৈলী অনন্যসাধারণ হয়ে ধরা দিয়েছে পাঠকের কাছে। অন্নদাশঙ্কর রায় বাংলা সাহিত্যে নিপুণ ছড়াশিল্পী হিসেবে স্বনামে খ্যাত। কিন্তু তাঁর ‘পথে প্রবাসে’ বাংলা ভ্রমণসাহিত্যের এক উজ্জ্বল সংযোজন।
এছাড়া আমরা পাই জসীম উদদীনের ভ্রমণবিষয়ক বই ‘চলে মুসাফির’, ‘হলদে পরির দেশে’, ‘যে দেশে মানুষ বড়’; পাই বুদ্ধদেব বসুর ‘আমি চঞ্চল হে’, ‘সব পেয়েছির দেশে’; সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ‘ছবির দেশে, কবিতার দেশে’র মতো অসামান্য সৃষ্টি।
আমাদের দেশে একজন লেখক আছেন, যিনি বয়সের ভারে কিছুটা ন্যুব্জ হলেও এখনো সাহিত্যের বিচিত্র ভুবনে পরিভ্রমণ করছেন। গল্প–উপন্যাসের পাশাপাশি লিখে চলেছেন ভ্রমণকাহিনি। দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ভ্রমণসমগ্র। তিনি হলেন হাসনাত আবদুল হাই। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। কাজের সুবাদে দেশ–বিদেশে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে। সঞ্চয় করেছেন লেখার বিপুল রসদও। ফলে অপূর্ব সব ভ্রমণকাহিনি বেরিয়েছে তাঁর হাত থেকে।
বাংলা ভ্রমণ–সাহিত্যে আরো কিছু বইয়ের উল্লেখ করতে পারি। যেমন– শঙ্খ ঘোষের ‘সীমান্তবিহীন দেশে দেশে’, হুমায়ূন আহমেদের ‘রাবণের দেশে আমি ও আমরা’, ‘পায়ের তলায় খড়ম’, ‘উঠোন পেরিয়ে দুই পা’; নবনীতা দেবসেনের ‘ভ্রমণসমগ্র’, ইমদাদ হকের ‘সার্বিয়া: শুভ্র শহরের দেশে’। এক্ষেত্রে অমরেন্দ্র চক্রবর্তী সম্পাদিত তিন খণ্ডের ‘সেরা ভ্রমণ কাহিনী’ ও আশরাফুজ্জামান উজ্জল সম্পাদিত ‘ভ্রমণের খেরোখাতা’র কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়।
আমাদের দেশে অনেকে ভ্রমণকাহিনি লিখেছেন, লিখছেন। বইও প্রকাশিত হয়েছে। এদের মধ্যে শাহনাজ সিঁথির নাম উল্লেখ করতে হয়। শাহনাজ সিঁথি আমার অত্যন্ত প্রিয় অনুজপ্রতিম লেখক। তিনি তাঁর সম্প্রতি প্রকাশিত দুটো বই পাঠিয়েছেন। দুটোই ভ্রমণকাহিনি। প্রথমটি ‘লেবানন: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যপূর্ণ উপাখ্যান’, এবং অন্যটি ‘কল্পলোকের দেশ: স্কটল্যান্ড ও লন্ডন’।
শাহনাজ সিঁথির অন্য পরিচয়–তিনি একজন কবি, অনুবাদক। প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামে তিনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তাঁর জীবনসঙ্গী ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত। এ দুটো বইয়ের আগে প্রকাশিত হয়েছিলো তাঁর আরো তিনটি বই। দুটি কবিতার ও একটি অনুবাদের। প্রথম কাব্য: ‘মনোকৈতব’; দ্বিতীয় কাব্য: ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মোহ’; এবং তৃতীয় গ্রন্থটি হলো অনুবাদ সাহিত্য। নাম : ‘পাওলো কোয়েলহোর গল্প’।
‘লেবানন: ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যপূর্ণ উপাখ্যান’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মেঘদূত প্রকাশন, ঢাকা। এ বই সম্পর্কে লেখক নিজেই বলেছেন, ‘লেবানন ভ্রমণ আমার জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটির পরতে পরতে ধর্মীয়, পৌরাণিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য আমাকে বিস্মিত ও মুগ্ধ করেছিল। এমন অনেক জায়গাতেই গিয়েছি যেখানে কিছুদিন আগে ড্রোন হামলায় এখন ধ্বংসস্তূপ। ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতে সৃষ্টি ও ধ্বংসের খেলায় মেতে ওঠে। লেখনীর মাধ্যমে হয়তো মানুষের কল্পনার জগতে সেই ইতিহাস ও ঐতিহ্য কথা বলে সংবেদনশীল পাঠকের নিবিষ্ট পাঠে। এই বইটিতে আমি সেই সব ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথকতা কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’
অন্য ভ্রমণগ্রন্থটি ‘কল্পলোকের দেশ: স্কটল্যান্ড ও লন্ডন’। প্রকাশ করেছে তৃতীয় চোখ, চট্টগ্রাম। ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে অধ্যয়নকালে লেখক শাহনাজ সিঁথির মনে হয়েছিলো স্কটল্যান্ড ও লন্ডন হলো তাঁর কল্পলোকের দেশ। ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাসের পাতায় যেসব কিংবদন্তীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ আছে, তাঁদের অনেকের তীর্থস্থান হলো স্কটল্যান্ড ও লন্ডন। বইটি সম্পর্কে সিঁথি বলেছেন, ‘বইয়ের পাতা থেকে একে একে সব চরিত্রের আনাগোনার জায়গাটি যখন গোচরীভূত হয় তখন উদ্বেলিত হৃদয় তার সৌন্দর্য আকণ্ঠ পান করে। ভ্রমণের সাথে সাথে সময়ের সীমারেখা পার করে আনন্দিত চিত্ত কেমন প্রজাপতির মতো রঙিন পেখম তুলে নিজের মনে আরও কোনও দূরের বাদ্যের সুরাঙ্গনে নিজেকে সঁপে দেয়। আমার বিশ্বাস স্কটল্যান্ড ও লন্ডনে আমার চলার পথে কুড়িয়ে পাওয়া শিল্প–সাহিত্য–ইতিহাস পাঠকের হৃদয়ের ভ্রমণ তৃষ্ণা কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে কিংবা ভ্রমণ বিলাসে আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিবে।’
শাহনাজ সিঁথির ভাষা ও বর্ণনভঙ্গি চমৎকার। সাবলীল ভঙ্গিতে কাহিনি বলে গেছেন তিনি। কোনো রাখঢাক নেই। বাহুল্য নেই বর্ণনায়। নেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। শাহনাজ সিঁথির লেখায় ইতিহাস, ভূগোল, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি উঠে এসেছে সাবলীলভাবে। অন্নদাশঙ্কর রায় তাঁর পথে প্রবাসে গ্রন্থে লিখেছেন, ‘যেদিন আমি বিদেশ যাত্রা করেছিলাম, সেদিন শুধু দেশ দেখতে যাইনি। গেছলুম মানুষকেও দেখতে, মানুষের সঙ্গে মিশতে, মানুষের সঙ্গে নানা সম্বন্ধ পাতাতে। দেশের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সৌন্দর্যের চেয়ে দেশের মানুষ সুন্দর। মানুষের অন্তর সুন্দর, বাহির সুন্দর, ভাষা সুন্দর, ভূষা সুন্দর। দেশ দেখতে ভালো লাগে না, যদি দেশের মানুষকে ভালো না লাগে।’ শাহনাজ সিঁথিও শুধু দেশ দেখেননি, দেখেছেন মানুষ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতি। দুটি গ্রন্থই সুখপাঠ্য এবং কৌতুল–উদ্দীপক। আশা জাগানিয়া, একই সঙ্গে আগ্রহজাগানিয়া। বলা হয়ে থাকে, ‘জীবন ও জগৎ’ দেখার অসাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃষ্টিকোণ না থাকলে সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব নয়। ভ্রমণসাহিত্যের ক্ষেত্রে এই একই প্রত্যয় ও অঙ্গীকার থাকতে হয় বলে লেখকরা তাঁদের রসবোধ সঞ্চার করেন সাহিত্যে। পটভূমি আর পরিপার্শ্বকে বিশ্বস্ত করে চিত্রায়ন করেন একটার পর একটা দৃশ্য। সেই দৃশ্য দেখে দেখে পাঠকরাও উপভোগ করেন ভ্রমণের আনন্দ।
রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি, দেশে দেশে কত না নগর রাজধানী, রয়ে গেল অগোচরে।’ অসীমের প্রতি মানুষের এই আকর্ষণ চিরন্তন। একঘেয়ে জীবনের বাইরে মানুষ নতুন কিছুর সন্ধান করে, আবিষ্কার করে। ভ্রমণের মাধ্যমে জীবনকে বহুমাত্রিকভাবে আবিষ্কার করে মানুষ। সেই আবিষ্কারকে ভ্রমণসাহিত্যের মাধ্যমে পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আনন্দ উপভোগ করেন কেবল লেখকরাই। শাহনাজ সিঁথিকে অভিনন্দন, যিনি প্রকৃত অর্থে ‘সুদূরেরও পিয়াসী।’
২.
লেখালেখির জগৎ যেমন সুন্দর স্বপ্নময় এক জগৎ, তেমনি নির্মম ও পিচ্ছিল জগতও। মজিদ মাহমুদের ভাষায়, ‘লেখালেখির জগৎ কখনোই পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। একজন লেখককে শুধু শব্দের সঙ্গে লড়াই করলেই হয় না; তাকে লড়তে হয় সমাজের সংকীর্ণতা, ঈর্ষা, দলবাজি, অস্বীকৃতি ও ভুল ব্যাখ্যার সঙ্গেও। নারী লেখকদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি হয়তো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, কিন্তু সত্যি বলতে– পুরুষ লেখকরাও কম প্রতিবন্ধকতার ভেতর দিয়ে যান না। সাহিত্যাঙ্গনের ঈর্ষা, গোষ্ঠীবাদ, পক্ষপাত ও অবমূল্যায়ন প্রায় সবার পথেই কমবেশি উপস্থিত থাকে।’ অন্যদিকে জাকির তালুকদার লিখলেন, ‘ফেসবুক এখন সাহিত্যের ভুয়া ফতোয়াবাজ এবং ভুয়া সাহিত্যতাত্ত্বিকদের ভালো বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ২০–২৫ বছর ধরে লিখছে, অথচ একটাও মানসম্মত কবিতা বা গল্প লিখতে পারেনি, তারা ফেসবুকে খুব সৃজনশীলতার জ্ঞান দেয়। আর সাহিত্যতাত্ত্বিক! তারা আরো মারাত্মক। ফুকো, দেরিদা, বাখতিনের নাম মারায়। নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি, এদের পাছায় কাঁচা কঞ্চি দিয়ে পেটানোর ভয় দেখালেও কারো সাহিত্যতত্ত্ব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে একটা বাক্যও বলতে পারবে না।’ দুজনের মন্তব্য এখানে তুলে ধরলাম এ কারণে যে, এসবের মধ্যে এগিয়ে যেতে হবে লেখককে। আমি এই লেখায় শাহনাজ সিঁথির বই আলোচনা করি নি। আমার কাজ হচ্ছে সৃজনশীলতার প্রশংসা করা, লেখককে প্রাণিত করা, লেখকের এগিয়ে যাওয়ার গতিকে ত্বরান্বিত করা, তাঁর শক্তিকে উসকে দেওয়া। এতে হয়তো ঈর্ষা বাড়বে, বাড়ুক।
লেখক : সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক আজাদী; ফেলো, বাংলা একাডেমি।












