চট্টগ্রাম বন্দরের সব পরিকল্পিত কনটেইনার টার্মিনাল চালু হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, পতেঙ্গা, লালদিয়া এবং বে–টার্মিনালের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মতো দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হবে। খবর বাংলানিউজ ও বিডিনিউজের।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্ব জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী এ তথ্য জানান। শেখ রবিউল আলম বলেন, সিঙ্গাপুর ও কলম্বো মূলত ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দর। সেখানে বড় জাহাজ থেকে কনটেইনার নামিয়ে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। ফলে কাস্টমস পরীক্ষা বা ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর একটি ফিডার পোর্ট হওয়ায় এখানে আমদানি–রপ্তানিসংশ্লিষ্ট কনটেইনারের কাস্টমস পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণেই ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের তুলনায় টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বেশি। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ফলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে বলে জানান শেখ রবিউল আলম। চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম’কমার তথ্য সংসদে তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম ২ দশমিক ৫৮ দিন ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা কমে ২ দশমিক ১ দিনে নেমেছে।
২০৩০ সালের মধ্যে বে–টার্মিনাল চালু হওয়ার আশা ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে এবং মাদার ভেসেল প্রবেশে জোয়ার–ভাটার নির্ভরতা ও নাব্যতার সংকট দূর হবে। বন্দরের সামগ্রিক জট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুন থেকে এর কার্যক্রম চালু হয়েছে। এই টার্মিনাল চালুর পর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজের গড় অপেক্ষমাণ সময় শূন্যের কোটায় নেমেছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া, বে–টার্মিনালসহ কয়েকটি টার্মিনাল নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে সৌদি আরবের একটি কোম্পানি। সিঙ্গাপুরের পিএসএ কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বে–টার্মিনাল–১ নিয়ে।
লালদিয়া টার্মিনাল নিয়ে ডেনমার্কের এপি মোলার–মায়ের্সকের সঙ্গে চুক্তির হওয়ার তথ্য দিয়ে নৌমন্ত্রী বলেন, বে–টার্মিনাল–২ নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আর বে–টার্মিনাল–৩ সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেরা করতে চায়। এসব টার্মিনাল পুরোদমে চালু করা গেলে ২০২৯ সালের মধ্যে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় অর্ধ দিনে নামতে পারে।











