১৪ বছর পর বাংলাদেশ খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ৭ দিনেও ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। গত ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সমিতির ১৮ পদে দুটি প্যানেলে নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি–জামায়াতে ইসলামী দুটি প্যানেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ফলাফল প্রকাশের আগে বহিরাগতদের হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ফলাফল প্রকাশ না করে সবকিছু সিলগালা করে নির্বাচন কমিশন চলে আসে। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ ঘরানার ঠিকাদারদের জেতানোর জন্য অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে।
জানা যায়, গত ১৪ বছর ধরে যুবলীগের নেতাদের দখলে ছিল বাংলাদেশ খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার সমিতি। সমিতির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন পদে ছিলেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সৈয়দ মাহমুদুল হক আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্যানেল সমিতির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ৩০ নভেম্বর বিকাল ৪টায় সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। কিন্তু ওই দিন ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতিকালে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে একদল লোক হামলা চালায়। নির্বাচন কমিশন বলেছে, বহিরাগতদের হামলার মুখে তারা ফলাফল ঘোষণা করতে না পেরে সবকিছু সিলগালা করে জমা রেখেছে।
অপরদিকে বিএনপি–জামায়াত প্যানেলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং ভোটে কারচুপি করার অভিযোগ এনে ফলাফল ঘোষণা বন্ধ ও ভোট পুনঃগণনার দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেন সমিতির সভাপতি প্রার্থী এসএম আবুল মনসুর। আর বিএনপি–জামায়াত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আবুল মনসুরের বিরুদ্ধে ব্যালট বাঙ ছিনতাইয়ের অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে আওয়ামী লীগপন্থী প্রার্থীরা। তিন সভাপতি প্রার্থীর উপস্থিতিতে ভোট গণনার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিএনপি–জামায়াতে ইসলামী প্যানেলের প্রার্থীরা।
অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন মাহবুব আলী খান। তার ছেলে মাহবুব শেফায়েত আওয়ামী লীগ প্যানেলের সদস্য প্রার্থী। অপরদিকে আত্মগোপনে থাকা সৈয়দ মাহমুদুল হকের ছোট ভাই মাহমুদুল রশিদ নির্বাচন কমিশনার। শুরু থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছিল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী প্যানেলের নেতৃবৃন্দ।
সব ধরনের অভিযোগ নাকচ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুব আলী বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করে। কিন্তু ভোট গণনার আগে বহিরাগতরা হামলা চালায়। আমরা পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যালট বাঙ সিলগালা করে রেখে এসেছি। ডিসি মহোদয়কে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি। এখন প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তবে সাত দিনেও ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।














