মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রবর্তক, গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ (ক.)-এঁর জন্মদ্বিশতবার্ষিকী স্মারক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ডিরি)-এর উদ্যোগে এক বিশেষ ‘ইনভাইটেড টক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ফটিকছড়ি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফস্থ ডিরি কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল : ‘সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এঁর উছুল–এ–সাবআ (সপ্তপদ্ধতি) এর বিশেষ উল্লেখসহ সুফি বিজ্ঞানের (সুফিজম) ওপর কুরআনের প্রভাব’। ভারত, ইরান ও বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞগণ এতে অংশ নেন।
আলোচনা সভায় সেশন চেয়ার হিসেবে সভাপতিত্ব করেন ডিরি’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী। সভাপতির বক্তব্যে তিনি সুফিবাদের মূল লক্ষ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য মাইজভাণ্ডারী দর্শনের কোনো বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়–এর আরবি ও ফারসি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ইশারাত আলী মোল্লা সুফিবাদের সার্বজনীন প্রেম এবং তৌহিদের দর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুফিবাদের শত্রু নেই, কারণ সুফিবাদ মানব প্রেম, সহনশীলতা ও মধ্যপন্থা অবলম্বনের শিক্ষা দেয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ও ইরানের শিক্ষাবিদ মেহরান নাজাফি হাজিভার বলেন, সৃষ্টিকর্তা আমাদের কর্মকে দেখেন এবং সৃষ্টির দিকে তাকালেই স্রষ্টাকে উপলব্ধি করা যায়। ফানা ফিল্লাহ (আল্লাহতে বিলীন হওয়া) ও তাসাউফ (আধ্যাত্মিকতা) সৃষ্টিকর্তার কথা বলে এবং মাইজভাণ্ডারী তরিকা সৃষ্টিকর্তার দিকে পৌঁছিয়ে দিতে কাজ করছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর–এ–আলম বলেন, উছুল–এ–সাবআহর মধ্যে রয়েছে নৈতিকতা ও মানবতা। এই সপ্তপদ্ধতির মাধ্যমেই স্রষ্টাকে লাভ করার নির্দেশনা রয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওসমান মেহেদী মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে অন্যতম জাগ্রত দরবার হচ্ছে মাইজভাণ্ডার দরবার। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।













