‘নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়‘ এটা একটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা হলেও বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলনামুলকভাবে অনেক বেশি বলেই মনে হয়। তাই এটাকে রোধ করতে হলে প্রথমেই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এটার ব্যাপকতা এতো তীব্র যে, রাতারাতি পরিবর্তন করাও সম্ভব নয়। প্রথম কাজ হলো এ অবক্ষয় এর বিরুদ্ধে একটি বলিষ্ঠ সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সামাজিকভাবে একেবারে তৃণমূল থেকে অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করেতে হবে,তাঁদের দেওয়া সকল দান প্রত্যাখান করতে হবে,তাঁদেরকে এড়িয়ে চলতে হবে, বয়কট করতে হবে। পাশাপাশি দেশে সৎ,দুর্নীতিমূক্ত সুনাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির উৎকর্ষ সাধনের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। মানবসমাজ নীতিগতভাবে সৃষ্টির সেরা জীব হওয়ায় নীতি নৈতিকতা মেনেই মানবজীবন পরিচালিত হতো। কিন্তু বৈষয়িক সম্পদ কিংবা বিত্ত বৈভবের মোহে পড়ে নিজেদের জীবনে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় দিনের পর দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে। বর্তমান ব্যবস্থায় ব্যক্তির অর্থের পরিমাণের উপর সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত হয়ে আসছে, কিভাবে এ অর্থ অর্জিত হলো তার কোন বিচার হয় না, সেখানে অবৈধভাবে অর্থ অর্জনের সীমাহীন লোভ মানুষকে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় এর দিকে ঠেলে দেয়। যেখানে নৈতিকতা বোধ সম্পন্ন ব্যক্তি এ সমাজ ব্যবস্থায় মূল্যায়িত হয় না,আর্থিক সচ্ছলতা না থাকায় এঁদের তো পাত্তায় দেওয়া হয় না। তাই সমাজব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যে পরাক্রমশালী রাষ্ট্রযন্ত্রের দেশপ্রেমিক, সৎ,ত্যাগী, সুশিক্ষিত ও সাহসী নেতৃত্ব গঠনে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস), চট্টগ্রাম জেলা শাখা।












