মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা লাঘব হয়েছে জুলাইয়ে

আইআইইউসির অনুষ্ঠানে কবি আবদুল হাই শিকদার

| শনিবার , ৮ আগস্ট, ২০২৬ at ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ

দেশবরেণ্য কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা লাঘব হয়েছে জুলাইয়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান অনিবার্যই ছিল। কারণ, জুলাইয়ের রক্তে মিশে আছে পলাশীর বক্ষ বিদীর্ণ করা হাহাকার, মিশে আছে বরকতরফিকের রক্ত, মহান মুক্তিযুদ্ধেও লাখো শহিদের আত্মত্যাগের অসীম ব্যঞ্জনা। মিশে আছে শহীদ জিয়ার রক্ত, দেশপ্রেম, সততা ও সৌন্দর্য। তিনি বলেন, জুলাই শুধু ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নয়,আধিপত্যবাদেও বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ছিল। আমরা এখনও নিজের অজান্তে আধিপত্যবাদকে সেজদা করছি। আমাদেরকে সাংস্কৃতিক বিরোধ বুঝতে হবে, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বুঝতে হবে। জুলাই আন্দোলনের পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, ক্ষোভ এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা। তাই জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে শুধু একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দেখার সুযোগ নেই, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সাহস, আত্মমর্যাদা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রেরণা। গত ৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর আয়োজনে জুলাইগণ অভ্যুত্থান পালন অনুষ্ঠানে দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি চত্বর থেকে বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা, জুলাই স্মৃতিচারণ, জুলাই স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও দোয়ামাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান। সভাপতিত্ব করেন উপউপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমদ, অনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ কাশেম, ফ্যাকাল্টি অব আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কাউসার আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর মোস্তফা মনির চৌধুরী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও আবৃত্তিশিল্পের শিক্ষক মোসতাক খন্দকার। জুলাইগণ অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন, সহযোগী অধ্যাপক সাইফুর রহমান চৌধুরী, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবদুস সেলিম, ছাত্রী জুলেখা আকতার, ছাত্র রিয়াজুল হক ও শহীদুল ইসলাম। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কোরআনিক সায়েন্সেস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. বি এম মফিজুর রহমান আলআযহারী।

প্রধান আলোচক আবদুল হাই শিকদার জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন একটি প্রশংসনীয় কাজ উল্লেখ করে তিনি এই অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. ইউনূসকে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রেখে গেছে। সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দুই বছরের মাথায় এসে আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেই কিছু বুদ্ধিজীবী জুলাইয়ের চেতনাকে আবার মুছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। সাংস্কৃতিক যোদ্ধারা আজকে সক্রিয়। সভাপতির বক্তব্যে উপউপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসেএকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাঁশখালীর বন্যার্তদের মাঝে প্রিমিয়ার ভার্সিটির ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
পরবর্তী নিবন্ধজুলাই সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হলে রাজপথেই জবাব দেওয়া হবে