সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে গত বুধবার। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সকল শিক্ষক–কর্মকর্তা–কর্মচারীর একদিনের বেতনের অর্থ দিয়ে এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহায়তার লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত ঢেউটিন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ত্রাণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ত্রাণ তহবিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, প্রক্টর ও ত্রাণ তহবিল পরিচালনা কমিটির সদস্য–সচিব মোহাম্মদ সোলাইমান চৌধুরী, স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ও ত্রাণ তহবিল পরিচালনা কমিটির সদস্য হোসেন মুরাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ তহবিল পরিচালনা কমিটির সদস্য সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন মুন্না ও রাশেদ সিকদার।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনে অনাকাঙিক্ষত সংকট সৃষ্টি করে। এমন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের নৈতিক ও মানবিক অঙ্গীকার। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সবসময় বিশ্বাস করে যে শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, শিক্ষা মানুষকে মানবিক হতে শেখায়, সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়। সেই আদর্শ থেকেই আমরা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছি।
আজ যে ৩৫টি পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেওয়া হলো, তা হয়তো তাদের সব ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না, কিন্তু নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং বিপদের সময়ে তাদের পাশে থাকা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগ, মানবিক সংকট কিংবা সামাজিক প্রয়োজনে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি দেশের মানুষের পাশে থাকবে। আমরা সমাজের সকল বিত্তবান ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাই। সম্মিলিত উদ্যোগই পারে দুর্যোগ–পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করে তুলতে।












