মায়ের জন্য অন্তর্ভেদী হাহাকার

মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল | রবিবার , ১৭ মে, ২০২৬ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ

মাসের যে দিনটায় আমি মায়ের জন্য কিছু নিয়ে যেতাম সেই দিনটাই ছিল আমার জন্য আনন্দের। মায়ের পছন্দমাফিক কোনো খাবার নিয়ে যেতাম আমি। মা হয়তো একটু খেতেন। এতেই ছিল আমার আনন্দ। ঐ দিনটাই ছিল আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি এখন মায়ের জন্য কিছু কেনার আনন্দ থেকে বঞ্চিত।

২০২৫ সালের ৩০ জুলাই থেকেই আমার মা ছিলেন শয্যাবন্দী। মাকে শয্যা থেকে তুলে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর আমাদের সীমিত সাধ্য সাধনার প্রতি বিধাতা আমল দেননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে পারেন নি আমার মা। তাকে সুস্থ করে তুলতে না পারার আমাদের ব্যর্থতা বোধহয় মাকেও ব্যথিত করে তুলেছিল। তাই বিধাতার সাথে বুঝাপড়াটা তিনি নিজেই সেরে নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের এগারো তারিখে আমাদেরকে সমস্ত ব্যর্থতার হাহাকার থেকে মুক্তি দিয়ে চলে গেলেন মা। মায়ের এই চলে যাওয়ায় শুধু তার বিছানাটা শূন্য হয়ে যায় নি, বুঝলাম আমার চারপাশের পৃথিবীটাও শূন্যতার হাহাকারে ডুবে গেছে মায়ের মৃত্যুর সাথে সাথে।

প্রতিদিন ঘর থেকে বের হলে রাত্রে বাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকেই শুনতাম মা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আমি কখন বাড়িতে পৌঁছবো। কেমন আছো মাজিজ্ঞেস করতেই মা জবাব দিতেন, ‘আমি কি আর ভালো হবো রে?’ আমার ভিতরটা হাহাকার করে উঠতো। মনে মনে বিধাতাকে বলতাম, ‘বিধাতা তুমি তো সব পারো। শুকনো কাঠে ফুল ফোটাতে পারো। তবে কেন সুস্থ হবার আকুলতা নিয়ে আমার মা বার বার তোমার দুয়ারে মাথা ঠুকে মরবে? কেন সন্তান হয়ে চোখের সামনে মায়ের এই বিছানাবন্দী অসহায় দৃশ্য আমাকে দেখতে হবে?’ কিন্তু শুনলোনা বিধাতা! আমাদেরকে সব ধরনের অনুযোগঅভিযোগের দায় থেকে মুক্তি দিয়ে মাকে তুলে নিলেন আমাদের মাঝ থেকে। মনে মনে শুধু বললাম, ‘এ শুধু তুমিই পারো বিধাতা।

মাহীন পৃথিবীটা এত কঠিন ও রূঢ় হতে পারে তা আমি এই প্রথম বুঝলাম। আমি মায়ের কাছে না থাকলেও সব সময় মনে হতো আমার সবটা জুড়ে আছে মা। মায়ের কাছে না থেকেও টের পেতাম মা যেন সব সময় আমার কাছে কাছেই রয়েছে। আজ আমার চারপাশটা বড় নিঃসঙ্গ মনে হয়। বড় অরক্ষিত মনে হয় নিজকে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবহদ্দারহাটে জলাবদ্ধতা নিরসন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধনারীর নিরাপত্তা