ব্লু-সুনামি: চোখে দেখা গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার!

এমরান হোসাইন | শুক্রবার , ৬ নভেম্বর, ২০২৬ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ

ঘড়ির কাঁটা তখন ৯টা ৩০। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, আকাশে প্রচুর মেঘের ওড়াওড়ি, তা দেখে মনে হলো ক্যানসাসের আকাশে কালো মেঘের আড়ালে আজ সূর্য হাসবেই। এয়ার ক্যাপিটাল অব দ্য ওয়ার্ল্ড বলে খ্যাত উইচিটা শহরের ‘চিশলম ট্রেইল চার্চ অব ক্রাইস্ট’ ভোটকেন্দ্রের সামনে গাড়ি পার্ক করি। আমরা তিনজনই রেজিস্টার্ড ভোটার। ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে নিরাপত্তারক্ষী বললেন সামনের কক্ষে ভোট গ্রহণ চলছে। এ সময় এক অশীতিপর বৃদ্ধা ‘স্টিভ হেনরি’ নিরাপত্তারক্ষীর কাঁধে ভর দিয়ে ব্যালট সংগ্রহ করে ভোটকেন্দ্রের সামনে কেঁদে দিয়ে বললেন এটাই হলো গণতন্ত্রের বাস্তব রূপ, সম্মিলিত চেষ্টা। তাঁর পেছনে দাঁড়ানো মার্টিন বলে উঠলেন গণতন্ত্র হলো নিজের ভোটাধিকার নিজে প্রয়োগ করা। এদের পেছনে লাইনে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের যে শিক্ষা পেলাম, তা আজীবন স্মৃতিপটে রেখে দেওয়ার মতো।

সামনে এগিয়ে ভোটকেন্দ্রের টেবিলে তিনজন পোলিং অফিসার বসা দেখলাম। এদের একজন আমার হাতে নাম–ঠিকানাসহ আইডি যাচাই করে সাদা ব্যালট পেপার মোড়ানো একটা ফাইল ধরিয়ে দেন। অপরজন ভোটিং মেশিন পর্যন্ত নিয়ে স্বয়ংক্রিয় মেশিনে কীভাবে ভোট দিতে হয়, বলে সরে গেলেন। ফাইলে থাকা সাদা পেপারটি মেশিনে ঢুকিয়ে স্টার্ট বাটন চাপ দেওয়ার সাথে স্ক্রিনে ভেসে আসে পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা। ২ থেকে ৩ মিনিটে ভোট শেষে সাদা কাগজটি প্রিন্ট হয়ে বেরিয়ে আসে। ফাইলের ভেতর করে ব্যালটটি আরেকটি মেশিনে ঢুকিয়ে দিতে হয়। এরপর স্ক্রিনে ভেসে আসে ভোটার নম্বরসহ “ধন্যবাদ, আপনার ভোট সম্পন্ন”। এ দীর্ঘ ভোট প্রসেসিংয়ে খুব সহজে একজন ভোটার তাঁর ভোট দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। ভোটকেন্দ্রের আশপাশে কোনো পুলিশের দেখা মেলেনি। একসাথে বের হওয়া ভোটাররা কেউ জানেন না কে কাকে ভোট দিয়েছেন। অথচ দিনশেষে দেখা গেল সবার (ভোটার) পথ মিশেছে এক পথে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের ইতিহাসে ৯৪ বছর পর আবারও ক্যানসাস অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেট প্রার্থী অ্যাডাম হেমিলটন ৫ লক্ষ ৫৩ হাজার ৪৭ (৫১.৩৪ শতাংশ) ভোট পেয়ে বিজয়ের শেষ হাসি হেসেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শাল ৪ লক্ষ ৯২ হাজার ৪১ (৪৫.৬৭ শতাংশ) ভোট পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বারাক ওবামার একটি কথা মনে পড়ে গেল তুমি কে, কোন দেশ থেকে এসেছ, তুমি দেখতে কেমন, সাদা–কালো, আমেরিকান, হিস্পানিক–এশিয়ান, তুমি চাইলে আমেরিকায় দাঁড়াতে পারবে।

অপরদিকে আলোচিত মিশিগানের ডেমোক্রেট প্রার্থী আব্দুর রহমান মোহাম্মদ আল–সাঈদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন হেরে যাওয়া কোনো অপশন নয় (লুজিং নট অ্যান অপশন)। গণতন্ত্র জিতেছে; প্রতিবারই জিতবে। লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাসের ভাড়া কমানো হোক
পরবর্তী নিবন্ধজীবন, দেশ ও সমাজ সবকিছুর মূলে রয়েছে রাজনীতির চরিত্র