ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে পুলিশের এক এএসআইসহ দু’জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া দু’জন হলেন– ঢাকার ওয়ারী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মরিয়ম নগর এলাকার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মো. জহির শাহ’র স্ত্রী কাজী পারভীন আক্তার। এএসআই মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্নাও রাঙ্গুনিয়ার মরিয়ম নগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি একসময় নগরীর আকবরশাহ থানায়ও কর্মরত ছিলেন।
আদালতসূত্র জানায়, নগরীর আকবরশাহ থানাধীন বিশ্ব কলোনি এলাকায় ব্যাভিচারের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় আকবরশাহ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রবাসী জহির শাহ এর ভাই নাদিম শাহ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। এতে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরিসহ মারধরেরও অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাদীর ভাই জহির শাহ ২০১৮ সালে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। অন্যদিকে নুরন্নবী মুন্না আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকাকালীন সময় তথা ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বাদী ও তার পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে একাধিকবার নিষেধ করলেও তারা তা অব্যাহত রাখেন। সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর বিশ্ব কলোনি এলাকায় থাকা ওই প্রবাসীর ফ্ল্যাটে পুলিশ সদস্য মুন্না প্রবেশ করে আপত্তিকর অবস্থায় অবস্থান করেন। জহির শাহ’র কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়রা গত ৯ সেপ্টেম্বর ফ্ল্যাটটি ঘেরাও করে অভিযুক্তদের আটকে রাখেন। খবর পেয়ে জহির শাহ’র এর ভাই তথা মামলার বাদী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ, মারধর এবং পরনের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন।
এসময় উপস্থিত জনতার সামনে পুলিশ সদস্য নুরুন্নবী মুন্না দাবি করেন যে, প্রবাসীর স্ত্রী বহাল থাকা অবস্থাতেই তিনি পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেছেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ প্রবাসীর স্ত্রী ও পুলিশ সদস্য মুন্নাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে প্রবাসীর ফ্ল্যাট থেকে ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা) এবং নগদ ১৫ লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যান। আকবরশাহ থানার উপ–পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মহসিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ব্যাভিচার, চুরি ও মারধরের অভিযোগে একটি মামলা রেকর্ড হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আদালতের কাছেও সোপর্দ করা হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান খান দৈনিক আজাদীকে বলেন, পুলিশ অভিযুক্ত দু’জনকে আদালতে উপস্থাপন করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।











