ইরানের বিমান চলাচলে রাশ টানার কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ইরানের এয়ারলাইন্সের বিমান অবতরণের অনুমতি দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিভিন্ন দেশকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিলে আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোতেও বিমান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বিশ্বজুড়ে ইরানের সব এয়ারলাইন্সের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। চলতি সপ্তাহ থেকেই সেটি করা হবে বলে জানান তিনি। কীভাবে এটি করা হবে তা ব্যাখ্যা করে বেসেন্ট বিশ্বের দেশগুলোর উদ্দেশে বলেছেন, ইরানের বিমান অবতরণ করতে চাইলে নামতে দেবেন না। তাদের টিকিট বিক্রি করবেন না। জ্বালানি ভরার সুযোগও দেবেন না। যদি তা না করেন, তাহলে ডলারে লেনদেনের ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হবেন। গতকাল বুধবার থেকেই সব ইরানি এয়ারলাইনসের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ইরানের বিমান সংস্থাগুলোকে সেবা দেওয়া অব্যাহত রাখলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। খবর বিডিনিউজ ও বিবিসি বাংলার।
এই হুমকি ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্রতর হতে থাকা অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের সর্বশেষ পদক্ষেপ, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধের পাশাপাশি অব্যাহত রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এটি ট্রাম্পের আরেক অস্ত্র। এই পদক্ষেপ ইরানের বিমান শিল্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগের জারি করা নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের বিরুদ্ধে স্কট বেসেন্টের ‘অর্থনৈতিক ডি–ডে’ ঘোষণা এবং তেহরানকে আর্থিকভাবে শ্বাসরোধ করার হুমকির পর নেওয়া হল। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কারণে অনেক দেশই নিষেধাজ্ঞা কবলিত ইরানি এয়ারলাইন্সের বিমান চালানো বন্ধ করে দিচ্ছে। ইরানের বিমান ওঠানামা এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করেছে ইরাক। ইরাকের দুই সূত্রকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানানো হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। জর্জিয়া আপাতত সেদেশে ইরানের কোনও বাণিজ্যিক বিমানকে অবতরণ করার অনুমতি দিচ্ছে না। ইরানের বিমানসংস্থা ‘মাহান’ জানিয়েছে, তুরস্ক সরকারের অনুরোধে তারা সেদেশে বিমান পরিষেবা দেওয়া স্থগিত রেখেছে। ইরানের বিমানসংস্থাগুলো বিমান রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতি আমদানিসহ নানা কারণে অন্য দেশগুলোর উপর নির্ভরশীল। বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দৃঢ়। বুধবারেই যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ট্রাম্প–জিনপিং বৈঠকেও ইরান প্রসঙ্গ উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের জারি করা ফরমান কতটা মানবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
ইরানের হুঁশিয়ারি : প্রতিবেশী দেশগুলোকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, আপনারা যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেন, তাহলে আপনাদের বিমানবন্দরগুলোতেও বিমান চলাচল করতে দেওয়া হবে না। ইরানের টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, আপনারা আমাদের ব্যবসায়ীদের ভ্রমণ সীমিত করবেন, আমাদের ফ্লাইট চলতে দেবেন না, আকাশপথে আমাদের পণ্য আমদানি বন্ধ করবেন, আমেরিকানদের সঙ্গে আঁতাত করবেন, আর আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখব–এটা হতে পারে না।
এদিকে, জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে রেজায়ি বলেন, এগুলো আলোচনা নয়, বরং কেবল শর্তাগুলো জানিয়ে দেওয়া। তিনি বলেন, শর্ত বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে নতুন কোনো বিষয় উত্থাপন করা হয়নি। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।











